কমিউনিটি সংক্রমণের কথা স্বীকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৪৫ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী লকডাউন আরও জোরদার করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সোমবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর ও বাসাবো এলাকায় রোগটি বেশি ছড়াচ্ছে। এছাড়া দেশের যে জেলাগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, সেসব জেলার সংক্রমিতদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তারা বেশিরভাগই ঢাকা থেকে গিয়েছে নয়তো নারায়ণগঞ্জ থেকে গিয়েছে। এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব এলাকার লকডাউন জোরদার করতে হবে।’

মানুষ লকডাউন পুরোপুরি মেনে চলছে না উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘বাজারে জটলা পাকাচ্ছে, অনেক লোকজন ঘোরাফেরা করছে। বাইরেও লোকজন অযথা ঘোরাফেরা করছে। এটি পরিহার করতে হবে। কারণ যেখানেই বাইরে ঘোরাফেরা করবে সেখানেই সংক্রমণ হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) হয়ে গেছে। এটা যেন না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। লকডাউন আরও ভালোভাবে কার্যকরের জন্য আমি সেনাবাহিনী, পুলিশসহ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।’

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ১৮২ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত ও ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানান মন্ত্রী। এক দিনে আক্রান্তের এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

করোনা থেকে রক্ষা পেতে ঘরে থাকা ও পরীক্ষা করাকেই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল প্রস্তুত করছি, কিন্তু হাসপাতালে লাখ লাখ লোকের চিকিৎসা কোনো দেশই দিতে পারে না। আমাদের মূল অস্ত্র হচ্ছে ঘরে থাকা এবং পরীক্ষা করা। কারণ পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীকে চিহ্নিত করা যাবে এবং তাকে আইসোলেশনে নেওয়া যাবে। যাতে অন্য কাউকে সংক্রমিত করতে না পারে। এটাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।’

ইউরোপ-আমেরিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন ইউরোপ-আমেরিকার কী অবস্থা। হাজার হাজার লোক সেখানে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে। লাখ লাখ লোক সংক্রমিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো সেই তুলনায় অনেক ভালো আছে। আমরা এ ভালোটা ধরে রাখতে চাই। সরকারের নির্দেশনাগুলো মেনে চললেই আমরা ভালো থাকব।’

করোনার জন্য আরও কিছু হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতালের পুরনো অংশ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরনো বার্ন ইউনিটকে করোনার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) একটি ভবনকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে উল্লেখ করে জাহিদ মালেক জানান, সেগুলোর মধ্যে ৫০০ শয্যার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও ৭০০ শয্যার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ রয়েছে।

করোনা রোগীদের সেবা দেওয়া ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ‘কভিডযোদ্ধা’ অভিহিত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেবা দিতে গিয়ে তারা অনেকেই সংক্রমিত হচ্ছেন। এরপরও কাজ করে যাচ্ছেন। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ বিশেষ করে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত