স্বাধীনতার পর এবারই ছায়ানট বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করছে না

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৪৪ এএম

ষাটের দশক থেকে নিয়মিত নববর্ষ উদযাপনের বর্ণাঢ্য আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। রমনা বটমূলের সেই অনুষ্ঠান মিশে গেছে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে। কিন্তু এবার হচ্ছে না সেই অনুষ্ঠান। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সহসভাপতি প্রখ্যাত নজরুলসংগীতশিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজন...

নববর্ষ উদযাপনের রীতি শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত একটিমাত্র বছরে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি। সেটি ছিল ১৯৭১ সাল। বাঙালি জাতি তখন উৎসবের আমেজে ছিল না। বাঁচার লড়াইটাই ছিল মুখ্য। এবার একই কারণে ছায়ানট অনুষ্ঠান করছে না। বাঁচতে হলে লোকসমাগম এড়িয়ে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। তাই স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম ছায়ানট বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ডিজিটাল বর্ষবরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তাই ছায়ানট আর বিটিভি যৌথভাবে ছোট্ট করে একটি অনুষ্ঠান সাজিয়েছে। বিটিভিতে আজ সাড়ে ৬টায় এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে। এতে বক্তব্য দেবেন ছায়ানট সভাপতি ড. সনজিদা খাতুন। আর গত তিন-চার বছরে ছায়ানট পহেলা বৈশাখের যে অনুষ্ঠান করেছে, তার কিছু অংশ সংকলন করে দেখানো হবে।

ত্রাণের দিকে মনোযোগী...

আমরা বর্ষবরণের জন্য অন্তত কটি নতুন গান করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু এখন চারদিকে যে মৃত্যুর হাতছানি, প্রতিনিয়ত দুঃসংবাদ, উৎকণ্ঠা এসব কারণে আমরা নতুন কোনো গান উপহার দিতে পারছি না। তবে দেশের অসহায় মানুষ যাতে একটু হলেও সহায়তা পায়, সেজন্য ছায়ানট ত্রাণের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এরই মধ্যে ফান্ড গঠিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের সদস্যদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেরা সেই ত্রাণ সরাসরি পৌঁছে দিতে পারছি না। কিন্তু বিদ্যানন্দ স্কুলের মাধ্যমে সেই ত্রাণ পৌঁছে যাবে। আমরা মূলত অসচ্ছল শিল্পীদের সহায়তা করতে চাই। বিশেষ করে যারা ছায়ানটের সঙ্গে যুক্ত।

ছায়ানটের অনলাইনে তালিম...

দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে কার ভালো লাগে? মাথায় নানা দুশ্চিন্তা ভর করে। তাই ছায়ানটের শিক্ষার্থীরা যাতে একটা সময় শেখার মাধ্যমে আনন্দের সঙ্গে কাটাতে পারে, আমরা সে ব্যবস্থা করেছি। ‘গানের নিবিড় পাঠ’ নামে একটি অনলাইন কার্যক্রম চালু করেছি। প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ছায়ানটের ফেইসবুক পেজ থেকে লাইভ করে শিক্ষার্থীদের গান শেখানো হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি একটি নতুন গান খুব সূক্ষ্মভাবে শেখাতে। রবীন্দ্রসংগীতের তালিম দিচ্ছেন সনজিদা খাতুন ও লাইসা আহমেদ লিসা, ফোঁক গানে চন্দনা রায় আর নজরুলসংগীতে আমি।

হোম কোয়ারেন্টাইনের সময়...

আমি প্রায় তিন সপ্তাহ ঘরে বন্দি। মূলত টিভিতে খবর দেখে আর পত্রিকা পড়েই সময় কাটে। মন ভালো থাকলে গান শুনি। আর এই অবসর সময়ে নজরুলের যেসব গান আগে শেখা হয়নি, তা কণ্ঠে তুলছি। অনেকেই জানেন, আমরা নজরুলের আদি সুর দিয়ে কাজ করছি। সেই সুরের মাধ্যমেই নতুন গান তুলছি। সেটা মোবাইলে রেকর্ড করে শিক্ষার্থীদের পাঠানোর পরিকল্পনা আছে। এতে তারাও নতুন কিছু গান শিখতে পারবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত