বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কফি হাতে কথা বলছিলেন এক ব্যক্তি। ফুটপাতের দোকানদার ও ক্রেতাদের কয়েকজনকে কিছু একটা বোঝাচ্ছিলেন তিনি।
উচ্চ স্বরে বলছিলেন, ‘আল্লাহ যেমন অদৃশ্য। করোনাও অদৃশ্য। কেউ তাদের দেখতে পায় না। সুতরাং করোনা আল্লাহর প্রতিনিধি। এই করোনা আসার পর আমি সবচেয়ে বেশি আরামে আছি। জীবনেও এত আরাম পাই নাই’।
কৌতুহলবশত এ প্রতিবেদক পরিচয় দিয়ে তার আরামে থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঢাকার ভোটার, নাম খোকন বাদশা, পেশায় রিকশাচালক।
আমার ঘরে এখন ৫০ টাকা দামের মিনিকেট চাল আছে। যা আগে কখনো ছিল না। তারপরও আমার রান্না করতে হয় না। এ খাওয়ায়, ও খাওয়ায়। ঘর ভাড়া মাফ করে দিয়েছে ম্যানেজার।
পেশায় রিকশাচালক এই খোকন বাদশা স্ত্রী নিয়ে থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন আদাবরের ভাড়া বাসায়। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহনে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে হাফ প্যান্ট পরে ঢাকায় এসেছি। প্রথমদিকে দলীয় নেতাদের ফুটফরমায়েশ খেটেছি। মিছিল-মিটিংয়ে গেছি। অনেক কষ্ট করেছি। তারপর সব বাদ দিয়ে রিকশা ধরেছি।
তিনি বলেন, কিন্তু করোনা আসার পর যে আরাম আয়েশে আছি, তা আমার জীবনে কখনোই ছিল না।
বাদশা বলেন, বাড়ির ম্যানেজার ভাড়া মাফ করে দিয়েছেন। তাই নামাজ পড়তে বলেছেন। নামাজ পড়া শুরু করে দিয়েছি। আগে সপ্তাহের সাত দিন রিকশা চালিয়ে যা জুটতো, এখন তিন দিনেই তার দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যায়।
বাদশা বলেন, আমি চাই করোনা আরো থাকুক। এতে আমার কোনো সমস্যা নাই। করোনা আমারে ইফেক্ট করবে না।
এই যে আমি মাস্ক পড়ছি, ‘এটা কিন্তু করোনার ভয়ে নয়, আর্মি, পুলিশের ভয়ে পরছি’।
করোনা নিয়ে তার এসব কথাবার্তায় ভিন্নমত পোষণ করে একাধিক দোকানদার ও ক্রেতা বলেন, তুমি তো রিকশাচালক। তুমি সবার কাছে চাইতে পারো। যেখান থেকে ইচ্ছে ত্রাণ নিতে পারে। আমাদের তো লজ্জা-শরম আছে। কারও কাছে কোনো সাহায্য চাইতে পারি না।
রিকশাচালক বাদশা বলেন, ‘১২ বছর বয়সী একমাত্র ছেলেকে হাফিজি মাদ্রাসায় দিয়েছি। আমি জানি সে ভালো আছে। তাই একটি ফোনও করিনি’।
বিয়ে করেছেন কয়টি এমন প্রশ্নে বাদশা খানিকটা দমে যান।
বলেন, ‘মিথ্যা বলব না, তবে কানে কানে বলি..’
এরপর খানিক দূরে গিয়ে আস্তে আস্তে বলেন, ‘তিনটা করেছি। তেজ করে দুইটারে খেদাইছি। এখন একটা আছে’।
