করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে কর্মহীনদের সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল আত্মসাতের ঘটনায় বরিশাল ও বরগুনার দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলা দুটি দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের আন্ধারমানিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অপর মামলাটি হয়েছে বরগুনার পাথরঘাটার কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টুর বিরুদ্ধে। তাদের দুজনকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
তিনি জানান, সরকারি সাহায্যের সাড়ে ২৭ হাজার কেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগে আলাউদ্দিন পল্টুর বিরুদ্ধে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে। গতকাল সংস্থার উপসহকারী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আলাউদ্দিন পল্টু ৫৫০টি জেলে পরিবারের ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব পান। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের ভিজিএফের চাল স্থানীয় ট্যাগ অফিসারকে না জানিয়ে মাস্টাররোলে সঠিক বিতরণ দেখান। উপকারভোগীদের ৮০ কেজি করে চালের পরিবর্তে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন তিনি। এভাবে তিনি ৫৫০টি পরিবারের ২৭ হাজার ৫০০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন। যার মূল্য ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬৫ টাকা
অন্যদিকে কাজী শহীদুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক দেবব্রত মন্ডল বাদী হয়ে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, কাজী শহীদুল আলম গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত জেলে পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ভিজিএফের (মৎস্য) ৩০ হাজার ৭২০ কেজি চাল তোলেন। নিয়মানুসারে উক্ত ইউনিয়নের ৩৮৪ জন জেলের মধ্যে মাসিক ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা। কিন্তু তিনি সংশ্লিষ্টদের না জানিয়ে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন। জেলেদের মধ্যে কেবলমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসের চাল বিতরণ দেখানো হয়েছে। তিনি ৩৮৪ জেলেকে ১০ কেজি করে চাল কম দিয়ে আত্মসাৎ করেন। যার বাজারমূল্য ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪০ টাকা।
ত্রাণ আত্মসাৎ মামলার চার্জশিট দ্রুততম সময়ে : সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ কার্যালয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দাসহ বিভিণ্ণ উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের কয়েকটি জায়গায় ত্রাণের চাল যথাস্থানে রাখা হয়নি, তালিকা প্রস্তুতিতে অনিয়ম-দুর্নীতি বা ত্রাণ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ কথাও সত্য, দেশব্যাপী এ জাতীয় ঘটনা ঘটেনি। কমিশন এ পর্যন্ত ৬টি জায়গায় এ জাতীয় ঘটনার সত্যতা পেয়েছে এবং মামলা করেছে।’ দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কমিশন থেকে এসব মামলার তদন্ত সম্পনড়ব করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুদক দ্রুত আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটিং সংস্থা হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ দায়িত্ব পালন করবে। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে দুদক এ জাতীয় অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
