হার্ট অ্যাটাক নিয়ে সতর্কতা

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০৪:০২ এএম

হার্ট অ্যাটাক বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। হার্ট অ্যাটাকে হৃদপিন্ডের ধমনী সরু বা বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপিণ্ডের মধ্যে রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়। এ কারণে হৃদকোষের মৃত্যু হয়ে হৃদপেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে,ফলে হৃদপিণ্ড যথাযথভাবে সমস্ত শরীরে রক্তসঞ্চালন করতে পারে না এবং হার্ট অ্যাটাক হয়।

কারা ঝুঁকিপূর্ণ  : সাধারণত মধ্যবয়সী বা বয়ঃবৃদ্ধদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে, যদিও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জন্মগত হৃৎপিণ্ডের ত্রুটির দরুন অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ঝুঁকি তুলনামূলক কিছুটা বেশি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাইপারলিপিডেমিয়া, ধূমপান, মদ্যপান, স্থূলতা, নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিবারে কারও হার্ট অ্যাটাকের অতীত ইতিহাস প্রভৃতি এই রোগের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

লক্ষণ  : হঠাৎ করে সমস্ত শরীরে অবসাদ লাগা, বুক ধড়ফড় করা, হঠাৎ করে বুকে অসহনীয় চাপা ব্যথা, বুক ভারী হয়ে আসা অথবা হাত, চোয়াল, ঘাড়ে ব্যথা হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, কপালে ঘাম দেওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।

প্রতিরোধ : হার্ট অ্যাটাকের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার হার অনেক কম। এ জন্য জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার আগেই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা উত্তম। আপনার উচ্চ রক্তচাপ অথবা ডায়াবেটিস থাকলে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, বাইরের মুক্ত বাতাসে নিয়মিত হাঁটুন, ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করুন। সবসময় দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন, হাস্যরস-আনন্দ-উল্লাসে অংশ নিন। অতিরিক্ত তেল চর্বি জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত লবণ, মাত্রাতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। রেড মিট যেমন খাসি, গরুর মাংস কম খেয়ে প্রোটিনের জন্য মুরগি বা মাছ আহার হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন। প্রয়োজনে সবুজ চা পান করতে পারেন। স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম অনুসরণে এ রোগ অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

করণীয়  : হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ করলে বা অনুরূপ লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, এরকম ক্ষেত্রে এক ঘণ্টা দেরির জন্য মৃত্যুর সম্ভাবনা কয়েক গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোগীর জন্য পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে, সম্ভব হলে জিহ্বার নিচে একটা গ্লিসারিন নাইট্রেট ট্যাবলেট দিয়ে রাখা যেতে পারে। হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অক্সিজেন, ফ্লুইড, অ্যাসপিরিন বা ক্লপিডগ্রেল জাতীয় ওষুধ, জমাটকৃত রক্ত দ্রবীভূত করার জন্য ওষুধ বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেলুনিং, স্টেন্ট এমনকি বাইপাস সার্জারিরও প্রয়োজন হতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয় সম্ভব না হলে বা হাসপাতালে আনতে দেরি হয়ে গেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত