করোনার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন

চুরিতে বাধা দেওয়ায় ভবনের তত্ত্বাবধায়ক খুন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১৯ এএম

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পানির মোটর ও বৈদ্যুতিক তার চুরিতে বাধা দেওয়ায় নির্মাণশ্রমিকরা হাত-পা বেঁধে ভবনের তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ার হোসেনকে (৫৫) খুন করে। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছেন ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

গতকাল সোমবার তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৩ এপ্রিল আনোয়ারকে হত্যার দুদিন পর ওই ভবনের আটতলা থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত টিম গঠন ও সন্দেহভাজন নিমাণশ্রমিক কাওসার, নয়ন, আফাজ, অনন্ত ও আশিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতের কথা স্বীকার করে এবং পরে আদালতেও জবানবন্দি দেয়।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, নির্মাণাধীন দশতলা ভবনের ওই জমির মালিকের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও বিশ্বস্ত ছিলেন আনোয়ার। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় সবশেষ মোবাইল ফোনে গ্রামে থাকা স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সংসার খরচের জন্য কিছু টাকা দ্রুত পাঠানোর আশ্বাস দেন স্ত্রীকে। এরপর দুদিন মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে মালিককে ফোন করে জানান আনোয়ারের স্ত্রী। পরে পুরান ঢাকা থেকে আগারগাঁওয়ে এসে মালিক অষ্টম তলার একটি কক্ষে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আনোয়ারের অর্ধগলিত লাশ পান। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ও তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, এ ঘটনায় মামলা হলে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাহমুদ খানের নেতৃত্বে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও এসআই আবদুর রশিদ সরকারকে নিয়ে তদন্ত টিম গঠন করা হয়। স্থানীয়রা তাদের জানায়, ভবনটিতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করলেও ১৩ এপ্রিলের পর থেকে তারা লাপাত্তা। এদের মধ্যে একজনের নাম পাওয়া যায়। এরপর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে, আনোয়ারের মোবাইল ফোনের অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আসামিরা বাড়ি যাওয়া এবং পাওনা মজুরি নিয়ে জটিলতার আশঙ্কায় ভবনের পানির পাম্প ও বৈদ্যুতিক তার চুরির সিদ্ধান্ত নেয়। আনোয়ারকে এ কাজে বাধা ভেবে ১৩ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে ভবন থেকে তারা নিচে নামে। একজন মূল ফটকে পাহারা এবং অন্য চারজন আনোয়ারের কক্ষে যায়। তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ সেঁটে দেওয়া হয়। এরপর ভবনের আটতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু স্কচটেপের কারণে শ্বাস বন্ধ হয়ে আনোয়ার নিস্তেজ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। এরপর লাশ সেখানে রেখে শেষরাতে তার মোবাইল ফোন নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায় বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত