যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের পরীক্ষামূলক টিকা প্রথমবারের মতো মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর তৈরি করা এই টিকা দুজনের শরীরে প্রয়োগ করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে করোনার পরীক্ষামূলক টিকা মানবদেহে প্রয়োগ করা হলেও ইউরোপে প্রথম ঘটনা।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গতকাল দুজন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে এই টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে প্রায় ৮০০ স্বেচ্ছাসেবীর দেহে এটা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদের মধ্যে অর্ধেক কভিড-১৯ এর জন্য টিকা গ্রহণ করবেন। আর বাকিরা গ্রহণ করবেন মেনিনজাইটিস থেকে সুরক্ষার কন্ট্রোল ভ্যাকসিন।
প্রথম টিকা নেওয়া দুজনের মধ্যে একজনের নাম এলিসা গ্রানাটো। তিনি বলেন, ‘আমি একজন বিজ্ঞানী, তাই আমি বৈজ্ঞানিক এই প্রক্রিয়াটিকে সহায়তা করতে চেয়েছি।’
ব্রিটিশ সরকার ও ব্রিটেনের কয়েকটি দাতব্য সংস্থার অর্থায়নে গড়ে ওঠা জেনার ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট এই টিকার তৈরি ও পরীক্ষামূলক তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এই ভ্যাকসিনের প্রতি আমার আত্মবিশ্বাস রয়েছে। কার্যকরী হলে শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে এই ভ্যাকসিনের আওতায় আনা যাবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সব মানুষের জন্য দ্রুততম সময়ে এটি উন্মুক্ত করবে।
বিবিসি বলছে, উদ্ভাবকদের ধারণা জ্বর বা একটু গা ব্যথা হতে পারে ভ্যাকসিনটি নেওয়ার পর। প্রায় সব ভ্যাকসিনেরই এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কার্যকারিতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিশ্চিতভাবে জানা যাবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই।
এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসের ৮০টির মতো ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে মানবদেহে প্রয়োগ করা হলো কেবল যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও যুক্তরাজ্যে।
