প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণের তীব্রতার জেরে গোটা বিশ্বে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ভারতেও।
এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অর্থবছরে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ০.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস তাদের ‘গ্লোবাল ইকনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে ভারত নিয়ে এই পূর্বাভাস দিয়েছে।
এই সময় জানায়, ঠিক একই দিনই ভারতের অগ্রণী বণিকসভা সিআইআই যে পূর্বাভাস দিয়েছে তা আরও মারাত্মক।
তারা বলেছেন, ‘করোনা সংক্রমণ ও ৪০ দিনের লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতির যা ক্ষতি হয়েছে, তাতে চলতি অর্থবছরে জিডিপি বৃদ্ধি পাওয়ার বদলে ০.৯ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।’
সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘লকডাউনের কারণে অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে শুধু খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম তৈরির কারখানাগুলো খোলা রয়েছে। খনি ও নির্মাণ শিল্প কাজকর্ম একেবারে স্তব্ধ। পরিষেবা ক্ষেত্রে, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, হোটেল ও পর্যটন একেবারে বন্ধ। আংশিক সচল রয়েছে শুধু তথ্যপ্রযুক্তি ও কিছু সরকারি পরিষেবা।’
তিনি মনে করেন, লকডাউন উঠে গেলেও দেশে দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ বাড়বে না। কেননা, ক্রেতা চাহিদার অভাবে বেশির ভাগ কলকারখানাই তার পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতার অনেক কম শক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন করছিল এবং কারখানাগুলোতে এখন অনেক উদ্বৃত্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। ফলে, তারা দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নতুন বিনিয়োগের পথে হাঁটবে না।
এছাড়া লকডাউনের জেরে ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা, কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় বহু মানুষের আয় কমে গেছে। এর ফলে বাজারে ক্রেতা চাহিদাও দ্রুত ফিরবে না।
সিআইআইয়ের মতে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ভারতীয় অর্থনীতি ০.৯ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে এবং সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতে বৃদ্ধির হার হতে পারে ১.৫ শতাংশ।
