নভেল করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য সম্ভাব্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডিসিভির প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দ্য গার্ডিয়ানের খবর।
করোনা চিকিৎসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শে যে কয়েকটি ওষুধের নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম রেমডিসিভির।
চীনে এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি করোনা চিকিৎসায় কার্যকারিতা দেখাতে পারেনি।
রেমডিসিভির কার্যকারিতা নিয়ে একটি খসড়া ডকুমেন্ট প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই ডকুমেন্ট বলা হয়, ওই ওষুধে রোগীদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তবে রেমডিসিভির প্রস্তুতকারক যুক্তরাষ্ট্রের গিলিয়ড সায়েন্সেস কোম্পানির দাবি, সঠিকভাবে ওই ডকুমেন্টে তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
গিলিয়ড সায়েন্সেসের এই অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ইবোলা ভাইরাস রোধে ট্রায়াল চালানো হয়েছিল। তবে ইবোলা চিকিৎসায় আফ্রিকাতে এই ওষুধ সফলতা দেখাতে ব্যর্থ হয়।
চীনে ২৩৭ জন আক্রান্তের ওপর করোনা চিকিৎসা নিয়ে একটি ট্রায়াল চালানো হয়। যাদের মধ্যে দেড় শতাধিক রোগীকে রেমডিসিভির দেয়া হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, ওষুধটি কাজ করছে না। বরং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
পুরো ট্রায়ালে ১৫৮ জনকে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয় এবং বাকি ৭৯ জনকে স্বাভাবিক ওষুধ ও মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা প্রদান করা হয়। এতে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে রেমডিসিভির গ্রহণ করা ব্যক্তিই বেশি। এমন মৃত্যুর হার ১৪ শতাংশ থেকে সামান্য কম। আর স্বাভাবিক চিকিৎসায় পাওয়া রোগীদের মৃত্যুর হার ১৩ শতাংশের কাছাকাছি।
তবে গত সপ্তাহ ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, গিলিয়াড ফার্মার এই ওষুধ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং কানাডায় করোনায় গুরুতর অসুস্থ ৫৩ ব্যক্তিকে দেওয়া হয়। এতে রোগীদের অধিকাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। ছয় দিনের ডোজেই তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে গিলিয়ড সায়েন্সেসের প্রতিক্রিয়ার পর ডব্লিউএইচও'র ওয়েবসাইট থেকে রেমডিসিভির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ব্যর্থতার প্রতিবেদনটি সরিয়ে ফেলা হয়।
এই প্রসঙ্গে সংস্থাটির একজন মুখপাত্র জানান, প্রতিবেদনটিতে কিছু ভুল ধরা পড়ায় সংশোধনের পর সেটি আবারও উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
