করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একশনএইডের ৯ দফা সুপারিশ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪৮ পিএম

করোনা পরিস্থিতিতে নিম্ন-বিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে নয় দফা সুপারিশ দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন শেষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সুপারিশ দিয়েছে সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার ভয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষ আতঙ্ক, উদ্বেগ ও শঙ্কার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও তা এক সামাজিক সংক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিদিনই ক্রমবর্ধমান হারে নতুন রোগী চিহ্নিত হচ্ছে। এর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়ে গেছে । আক্রান্ত হয়েছে চার হাজারের বেশি।

করোনার প্রাদুর্ভাবে শুধুমাত্র মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, মৃত্যুবরণ করছে তা নয়, এর কারণে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। গ্রামের মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এখনই এটা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

একশনএইড আরো জানায়, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য সরবরাহে আরো বেশি কাজে লাগাতে হবে, যাতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা দূর হয় এবং আতঙ্ক বিরাজ না করে।

এছাড়া সব জেলার হাসপাতালে করোনা শনাক্তকরণ কিট সরবরাহ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং চর, হাওর, পাহাড় ও বস্তিসহ ভৌগোলিক অঞ্চল বিবেচনায় নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা নিশ্চিত করা। তাদের জন্য মাস্ক, সাবান এবং স্যানিটাইজার ইত্যাদির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এর বাইরে করোনা পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে গ্রামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাজার ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানো। সে ক্ষেত্রে এলাকায় অবস্থিত খোলা মাঠে নির্দিষ্ট দিনে পরিমিত দূরত্ব বজায় রেখে কেনাবেচার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করে বেসরকারি সংস্থাটি

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক এবং কৃষকদের সম্পর্কে বলা হয়, কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও গুদামজাতকরণের পাশাপাশি পণ্য বিনিময় এবং ত্রাণের তালিকায় এ সমস্ত পণ্য সংযুক্ত করা উচিত। এছাড়া দিনমজুর, রিকশাচালক, ইটভাটা শ্রমিকসহ অন্যান্য শ্রমিকদের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বহুমুখী কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের কথা ভাবা উচিত।

এর বাইরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে করোনা যুদ্ধে নিয়োজিত যুব সমাজকে সুরক্ষায় অনলাইনে সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করা উচিত বলেও মনে করে সংস্থাটি। এই সংকটে নারী-শিশু নির্যাতন রোধে প্রশাসনিক দায়িত্ব জোরদার করার দাবি জানিয়েছে একশন এইডের পক্ষ থেকে। সর্বোপরি আসন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত