ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (বিআইটিআইডি) পর এবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিআইটিআইডি থেকে পাঠানো নমুনা নিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভাসুর প্যাথলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জুনায়েদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘আমরা ল্যাবে দৈনিক ১০০ নমুনা পরীক্ষা করতে পারব।’
ড. জুনায়েদ সিদ্দিকী বলেন, ‘শুরুতে বিআইটিআইডি থেকে ২০টি নমুনা দেওয়া হয়েছে। এই ২০টি নমুনা নিয়ে কাজ করছি। যেহেতু সবাই আমরা নতুন কাজ করছি, তাই কম নমুনা পাঠানো হয়েছে। পরে আরও বাড়বে। আমরা পরীক্ষার পর প্রতিবেদন বিআইটিআইডিতে পাঠিয়ে দেব। সেখান থেকেই তা প্রকাশ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি পিসিআর মেশিনে নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে। এতে আমরা দুজন শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থী কাজ করছি। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার জন্য অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা তাদের তালিকাও প্রস্তুত করেছি।’
বিআইটিআইডির ল্যাব ইনচার্জ ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার সিভাসুতে গিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তাদের সব প্রস্তুতিই সন্তোষজনক। তবে যেহেতু নতুনভাবে শুরু হচ্ছে, তাই আমরা শুরুতে কম নমুনা পাঠিয়েছি পরীক্ষার জন্য। নমুনা পরীক্ষার ধরন দেখে ধীরে ধীরে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।’
গত ২৬ মার্চ বিআইটিআইডিতে কভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয়। পরে সিভাসু ল্যাবে পিসিআর মেশিন থাকায় করোনা পরীক্ষার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সিভাসু উপাচার্যের কাছে এ সংক্রান্ত লিখিত নির্দেশনা আসে। এরপর ৪৮০ কিট, পিপিই এবং ল্যাবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিভাসুতে করোনা পরীক্ষার ল্যাব উদ্বোধন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
এদিকে গত ২৬ মার্চ থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত বিআইটিআইডিতে চট্টগ্রাম নগরীর পাশাপাশি বিভাগের অন্য ১০ জেলার ২ হাজার ২৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শুক্রবার সেখানে ১৮৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
