সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে খোলাবাজারে (ওএমএস) বিক্রির জন্য নির্ধারিত ২২৪ বস্তা চাল সিলেটের জকিগঞ্জের কালিগঞ্জ বাজারে লুট হয়েছে। গত রবিবার বিকেলে চালগুলো উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য সিলেট থেকে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার পথে লুট হয়। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় ২ জন ডিলারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় মিল মালিকসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন ডিলার জয়নাল আহমদ ও আবদুল মুকিত, ট্রাকচালক কামরুল ইসলাম, চালকের সহকারী সাইফ উদ্দিন এবং কালিগঞ্জের দেলোয়ার হোসেন ও বিপ্লব আহমদ।
জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ও থানা পুলিশ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য একটি ট্রাকে করে ৫৭০ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি) চাল সিলেটের মেসার্স মেঘনা অটো রাইস মিল থেকে গত রবিবার বিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। চালভর্তি ট্রাকটি জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পর ‘১০ টাকা কেজির চাল অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে’ স্থানীয়রা এটি আটক করে। এ সময় ডিলাররা চালের কোনো কাগজও দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ট্রাক থেকে চাল লুট শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ যাওয়ার আগেই ২২৪ বস্তা চাল লুট হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে ট্রাক এবং আশপাশে ফেলে রাখা ৩৪৬ বস্তা চাল উদ্ধার করে।
জকিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রুমানা আফরোজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৩টি ইউনিয়নে বিক্রির জন্য ৫৭০ বস্তা চাল সিলেটের মিল থেকে নিয়ে যাওয়ার পথে কালিগঞ্জ বাজারে লোকজন আটক করে। এ সময় তারা ডিলারের কাছে সরকারি চালের কাগজপত্র দেখতে চায়। কিন্তু ডিলার কাগজ না দেখানোর কারণে লোকজন চাল লুট শুরু করে। পুলিশ গিয়ে চাল লুটকারী ২ জন, ২ জন ডিলার, ট্রাকের চালক ও সহকারীকে আটক করে এবং বাকি চালগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাতেই মিল মালিকসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।’
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ বলেন, ‘চালগুলো সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির। উপজেলার কসকনকপুর, মানিকপুর ও বারঠাকুরী ইউনিয়নে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ডিলারের কাছে এই চালের কোনো কাগজ ছিল না। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হচ্ছে দাবি করে স্থানীয় কিছু লোক ট্রাক আটকে চাল লুট করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কেন এমনটি হলো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মোহাম্মদ আবদুন নাসের বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে চাল লুটকারী ২ জনকে হাতেনাতে আটক করে এবং ৩৪৬ বস্তা চালসহ ট্রাকটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ২ জন ডিলার, চালক ও চালকের সহকারীকেও আটক করা হয়। এ ব্যাপারে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার দায়ের মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
৩ জেলায় ডিলার বরখাস্ত : ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে নেওয়া নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পরও থেমে নেই সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও নায্যমূল্যে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য চুরি। গতকাল সোমবারও নড়াইলের লোহাগড়ায় ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক ডিলার। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একই অভিযোগে আরেক ডিলারকে বরখাস্ত এবং কামারখন্দে অবৈধভাবে সরকারি চাল মজুদ রাখায় এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া ফরিদপুরের সদরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারকালে জব্দ ও ডিলারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় সরকারি চাল বিক্রি ও ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগে দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত মামলা করেছে আদালত।
