বরিশালে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এমএ আজাদ সজলের (৪৬) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নগরীর কালীবাড়ি সড়কের মমতা স্পেশালাইজড হসপিটালের লিফটের নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসক আজাদের মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে মনে করছে পুলিশ। এটি হত্যা না কি দুর্ঘটনা সে ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে স্বজনরা বলছেন, আজাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আজাদ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির সোহাগদল গ্রামে। এই চিকিৎসকের স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে থাকেন।
চিকিৎসক আজাদের মামা মো. মনির হোসেন সরদার জানান, আজাদ বরিশাল মেডিকেলের চিকিৎসক হলেও থাকতেন মমতা হাসপাতালে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা ঢাকায় থাকে। গত সোমবার বিকেলের পর থেকে আজাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যাচ্ছিল না। বারবার কল করলেও রিসিভ না করায় তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম মমতা হাসপাতালের পরিচালক ডা. জহুরুল হক মানিককে ফোন করেন। কিন্তু তিনিও আজাদের কোনো সন্ধান দিতে পারেননি।
পরে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তারা বরিশাল মমতা হাসপাতালে পৌঁছান উল্লেখ করে মনির হোসেন সরদার বলেন, ‘পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে আজাদের থাকার কক্ষের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষের দরজার সঙ্গে আগের দিনের ইফতারির প্যাকেট ঝুলছে। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে টেবিলের ওপর তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। এরপর পুরো হাসপাতালে তল্লাশি শুরু হয়। এক পর্যায়ে এক আয়া এসে বলেন, আজাদের লাশ লিফটের নিচে পড়ে আছে।’
চিকিসৎসক আজাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তার মামা মনির হোসেন আরও বলেন, ‘লিফটের নিচে লাশ কোনোভাবেই পড়তে পারে না। এটা পরিকল্পিত হত্যা।’
একই ধরনের মন্তব্য করে আজাদের চাচা আ. করিম শেখ বলেন, ‘এই মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এটা হত্যা। পরিকল্পিত হত্যা।’
লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোক্তার হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে হত্যাকা- না কি দুর্ঘটনা তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজাদের মৃত্যুর ব্যাপারে জানতে চাইলে মমতা স্পেশালাইজড হসপিটালের পরিচালক ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জহিরুল হক মানিক বলেন, ‘ডা. আজাদ হাসপাতালের ৭ম তলার ৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি নিচে নেমেছেন। হাসপাতালের বয়রা সন্ধ্যায় তার জন্য ইফতারি নিয়ে যায়। ওরা গিয়ে দেখে রুম তালা দেওয়া। পরে ওরা দরজার সঙ্গে ইফতারি ঝুলিয়ে রাখে। রাত ১০টায় গিয়েও একই অবস্থা দেখে। তারা ভেবেছিল, সে হয়তো বাইরে গেছে। রাত সাড়ে ৪টার সময় আজাদের স্ত্রী ফোন দেয়। আজাদের ফোন বাজে কিন্তু ধরছে না। এরপর সকালে পুলিশে সংবাদ দিয়ে রুমের দরজা ভাঙানো হয়। রুমে মোবাইল ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। এরপর খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এক পর্যায়ে লিফটের নিচে আজাদকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এটা কীভাবে হলো বুঝতে পারছি না। লিফটের নিচে পড়াটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কোনো ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কি না জানি না।’
অন্যদিকে আজাদের মরদেহের সুরতহাল করা পুলিশ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডা. আজাদের ডান হাঁটুর নিচে ভেঙে গেছে। অনেকটা গর্ত হয়ে গেছে। বাম পায়ের গোড়ালির মাংস ছিঁড়ে গেছে। এর বাইরে তার শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। পুরো তদন্ত না করে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে না।’
