সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের রপ্তানীমূখী ২৭টি গার্মেন্টস কারখানার উৎপাদন শনিবার থেকে চালু হয়েছে। আদমজী ইপিজেড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে সকাল ৮ টা থেকে এসব কারখানা চালু হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার আশপাশে বসবাসরত শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। করোনা ঝুঁকির সময় এভাবে হাজারো পোশাক শ্রমিক কাজে যোগদানের ঘটনায় আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ ঝুঁকির ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
জানা যায়, লকডাউনের মধ্যে শনিবার সকাল থেকে চালু হয়েছে আদমজী ইপিজেডের ২৭টি কারখানা। এসব কারখানায় প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। শ্রমিকরা নিরাপদ দূরত্ব না মেনে একসাথে হাজার হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিচ্ছে এবং বিকালে ছুটির পর বের হচ্ছে। এভাবে করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে শ্রমিকরা। এসব চিত্র দেখে এলাকাবাসী আতংকে রয়েছেন।
এদিকে আদমজী ইপিজেডের গার্মেন্টস কারখানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইপিজেড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকদের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্হিবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের কারখানা চালু রাখার বিকল্প নেই। বায়াররা যাতে তাদের অর্ডার বাতিল না করে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারি সেজন্য এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
কারখানা চালু রাখার পক্ষে মালিকরা বলছেন, কারখানা বন্ধ করার কোনো কারণ নেই, সরকারের দিকনির্দেশনা মেনেই কারখানা পরিচালিত হবে। তাদের মতে, কারখানা বন্ধ হলে বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ হতে পারে। তবে গার্মেন্টস বন্ধ হোক বা না হোক, বেতন বোনাস যথাসময়ের শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা এখন যেভাবে চলাচল করছে এটি করোনা ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্বের সঙ্গে যায় না। এটা একেবারে বিপরীত। এর মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। এটা মারাত্মক হয়ে দেখা দিতে পারে।
