সরকারি ত্রাণ কারা পাচ্ছে খোঁজ রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ০৪:২৪ এএম

করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতিতে সারা দেশে দলীয়ভাবে দরিদ্র, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে কী পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে তার হিসাব চেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সারা দেশের ইউনিটগুলোর দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে এই হিসাব চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি ত্রাণ কোথায় যাচ্ছে, কারা পাচ্ছে সেই খবর রাখতে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, সরকার সারা দেশে ত্রাণ বিতরণ কাজ তদারকির জন্য প্রত্যেক জেলায় একজন করে সিনিয়র সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছে। কারা সরকারি এই ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য বা কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন কি না সারা দেশ থেকে সেই তালিকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট নেতাদের। পাশাপাশি সারা দেশে দলীয়ভাবে দরিদ্র, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে কী পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে তার হিসাব চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত কী পরিমাণ ত্রাণ দেওয়া হয়েছে তার হিসাব চাওয়া হয়েছে সারা দেশের নেতাদের কাছে। তিনি বলেন, অনেক জায়গা থেকে হিসাব পাঠানো হয়েছে। এ সপ্তাহ নাগাদ সারা দেশ থেকে হিসাব চলে আসবে। এই হিসাব চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, হিসাব পাওয়ার পর স্বল্প পরিসরে একটি বৈঠক হবে। সেখানে বোঝা যাবে পরবর্তী পরিকল্পনার কথা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশ থেকে ত্রাণের হিসাব জানতে চাওয়া হয়েছে। হিসাব পাওয়ার পর সেসব ত্রাণকর্তাকে দলীয় সভাপতির পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানানো হতে পারে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস দুর্যোগে সরকারের পাশাপাশি দলও যে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সেটা একেবারেই খবরের বাইরে রয়ে গেছে। বিএনপি এ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে দলীয় ত্রাণ বিতরণের সঠিক তথ্য-উপাত্ত থাকলে দলও যে অবদান রাখছে তা তিনি তুলে ধরতে পারবেন।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, সারা দেশে যেসব নেতা দলকে ব্যবহার করে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন’ তারা দেশের দুর্দিনে কী ভূমিকা রাখছেন তা দেখতে হিসাব চেয়েছেন দলীয় সভাপতি। তিনি বলেন, সারা দেশে কে কত ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন, বৈধ-অবৈধভাবে সে হিসাবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। এই বিপদে কে কত সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন তাও দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী।

দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই সময়ে কার কী ভূমিকা সেটা দেখতে চান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। এজন্যই সারা দেশে এই দুর্যোগে নেতাদের কার কী ভূমিকা সেটা দেখতেই হিসাব চেয়েছেন। তিনি বলেন, হতে পারে এই সময়ের পারফরমেন্স দেখে ভবিষ্যতে পুরস্কার বা তিরস্কার করা হতে পারে। সম্পাদকম-লীর এই সদস্য বলেন, করোনাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলার পর সরকারে এক ধরনের পরিবর্তন আসবে। সেই বিবেচনা করেও এই পরিকল্পনা নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

ত্রাণ বিতরণে ‘নিষ্ক্রিয় করে রাখা’ দলকেও সক্রিয় করারও পরিকল্পনা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলীয়ভাবে বিতরণ করা ত্রাণ তদারকিতে নামবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম তদারকি করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় যাবেন তারা। ত্রাণ বিতরণে সচিবদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়ায় দলের নেতাদের ভেতরে এক ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। সেই অসন্তোষ দূর করা এবং দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় রাখার লক্ষ্যে দলীয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা পর্যবেক্ষণে নামবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আজ সোমবার থেকে ঢাকায় ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করার কথা ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। পরে জানা গেছে, আরও দুয়েক দিন পেছাতে পারে কেন্দ্রীয় নেতাদের ত্রাণ তদারকি করার কাজ। গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় কয়েক নেতা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার রাজধানীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠক করেন। সেখানে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

দলীয়ভাবে কী পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে তা জানতে চাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বাহাউদ্দিন নাছিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ত্রাণ সহায়তায় নেই এমন অপপ্রচারের জবাব দেওয়া, দলের অ্যাকাউন্টিবিলিটি রক্ষা করা ও আমাদের ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করার প্রয়োজনে সারা দেশের হিসাব চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই তালিকা ভবিষ্যতেও কাজে লাগতে পারে। দলীয় ত্রাণ কার্যক্রম তদারকিতে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লকডাউন শেষ হলে আমরা সারা দেশে তদারকিতে নামব। ঢাকায় দুয়েক দিনের মধ্যে শুরু করব। এর মধ্য দিয়ে দলীয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে বিএনপি যে অপপ্রাচার করছে, এর জবাব দিতে আমরা অনেকগুলো পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা জনগণের পাশে আছি; পাশে থাকতে চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত