কবি লিখেছেন ‘আমাদের দেখা হোক মহামারী শেষে, আমাদের দেখা হোক জিতে ফিরে এসে, আমাদের দেখা হোক জীবাণু ঘুমালে... আমাদের দেখা হোক সুস্থ শহরে।’ তার মতো প্রত্যাশা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে সবার মনে করোনা শেষে দেখা হোক সবার সুস্থ সময়ে। বিশ্ব আজ অসুস্থ অপয়া সময় পার করছে। করোনার প্রাদুর্ভাব, তার অতি সংক্রমণের প্রসার, প্রতিরোধ প্রয়াসের অসফলতা এবং দেশে দেশে ব্যাপক প্রাণহানির (ইতিমধ্যে দুই লাখ অতিক্রান্ত) প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশ্ব শক্তিসমূহের মধ্যে কোনো ঠান্ডা যুদ্ধ পরিস্থিতি আছে কি না, মানবিক বিপর্যয় রোধে তাদের কারও কারও দৃশ্যমান ব্যর্থতার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য বা অভিসন্ধি আছে কি না তা নিয়ে সমাজ, অর্থ ও রাজনীতি বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে কানাঘুষা শুরু করে দিয়েছেন। মার্কিন ভাষাতত্ত্ববিদ-দার্শনিক নোয়াম চমস্কি এই সেদিন সোজাসাপ্টা বলেই ফেলেছেন, ‘চীনের বাইরে দেশগুলোর কাছে করোনার ভয়াবহতার তথ্য আগে থেকে থাকা সত্ত্বেও (Nothing was done. The crisis was then made worse by the treachery of the political systems that didn’t pay attention to the information that they were aware of.) রাজনৈতিক ভেদবুদ্ধির ফেরে কিছুই করা হয়নি, নইলে করোনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেত।’
করোনাভাইরাস বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মানুষকে আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক আশঙ্কায় ফেলেছে, যা অতীতে কখনো এমন কোনো দৈব-দুর্বিপাক, মহামারী বা দুর্যোগ এভাবে মানুষকে এতটা ভয়ের কাতারে বাঁধতে পারেনি। মানুষের মাধ্যমে ভয়ানক প্রকৃতির এই ভাইরাস সংক্রমিত হয় বলে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির এবং সামাজিক সংযোগ শুধু নিষিদ্ধই হচ্ছে না, করোনায় আক্রান্তের প্রতি সহানুভূতি ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যাপারটিও স্পর্শকাতরতার কাদায় মাখামাখি হয়ে মানবতার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যে যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন, করোনার ভয় সবাইকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ব্যক্তি স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য করোনা যেমন ভয়াল প্রতিপক্ষ, মানুষের জীবন-জীবিকা তার আর্থ-সামাজিক অবস্থান, দেশ ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য করোনা ব্যাপক হুমকি প্রতীয়মান হচ্ছে। পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা এবং এমনকি মেকি গণতন্ত্র অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে বলে পণ্ডিতরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাই সবার উপলব্ধিতে আসছে মহামারী করোনা যেন যুগ যুগ ধরে মানবতার অবমাননা, বৈষম্য, লোভ, লালসা, মিথ্যাবাদিতা ও অহমিকার যে পাপাচার বিশ্বকে গ্রাস করছিল, তার সমুদয় দূর করতে বিশ্বময় একটা প্রবল ঝাঁকুনি দিতেই এসেছে, আত্মশুদ্ধি ও অনুশোচনার শিক্ষা নিয়ে শুধু দুহাতকে নয়, বিবেককে বারবার ধৌত করার চেতনা জাগ্রত হচ্ছে।
সচেতনভাবে, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিরোধমূলক যা যা উপায় অবলম্বন করা দরকার, তাতে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে শামিল করতে পারলেই করোনার ব্যাপক বিস্তার রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো বা থামানো যাবে। করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর সংগ্রামে ব্যর্থতা মানে মানবিক বিপর্যয় যেমন ঘটেছে চীনে, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে। এরা সবাই উন্নত বিশ্ব, সংক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা সরঞ্জাম অর্থ তাদের আছে তা সত্ত্বেও। বাংলাদেশে আগত প্রবাসীরা প্রযোজ্য কোয়ারেন্টাইন পরিপালন ছাড়া সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ায়, সময়মতো লকডাউন না করে ‘ছুটিতে’ দল বেঁধে বাড়ি যাওয়া-আসার সুযোগ থেকেই ‘সামাজিক দূরত্ব’ সৃষ্টির মতো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কর্মসূচিতে কঠোর হতে হচ্ছে ক্রান্তিকালে। এর আগে ‘পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায়’ আক্রান্ত চিহ্নিতকরণের পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থার অপ্রতুলতায় সংক্রামকদের শনাক্তকরণে বিলম্ব ঘটেছে। যথাসময়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তাসামগ্রী নিশ্চিত না হওয়ায় ইতিমধ্যে রোগীর চিকিৎসাসেবা শুশ্রƒষা ও সমানুভূতি, সহানুভূতি পাওয়ার এমনকি মৃত্যুর পর সমাহিত হওয়ার সর্বজনীন অধিকার বঞ্চিত হওয়ার ভয় তৈরি হওয়ায়, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরীক্ষা করা বা করানোয় অনীহা, রোগীর তথ্য প্রকাশ না করার প্রবণতা বিদ্যমান থাকায় অত্যন্ত ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঘটার ভয় বেড়েই চলেছে। সংক্রমিত রোগী শনাক্তকরণ পদ্ধতিকে ব্যাপক, গণমুখী ও সহজসাধ্য করা, সম্ভাব্য সংক্রমণকারীদের কর্র্তৃপক্ষীয় কঠোর কোয়ারেন্টাইনে, আইসোলেশনে এবং গণচিকিৎসাসেবা দানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনিবার্যতা দেখা দিয়েছে।
ভাইরাস হিসেবে করোনা মানুষের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে, মানবদেহে সংক্রমিত হয়ে প্রথমে লুকিয়ে থাকে এবং একপর্যায়ে সক্রিয় হয়ে ফুসফুসে আক্রমণ করে শারীরিক ক্ষতি করে। সচরাচর অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে মানবদেহে করোনার সরাসরি সংক্রমণের ক্ষমতা চাতুর্যময় ও ব্যাপক এবং এখন পর্যন্ত একে নিরাময়ের নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষেধক মেলেনি বলেই করোনাকে ভয়াবহতম ভাইরাস ভাবা হচ্ছে। বিশ্বায়নের যুগে মানুষ দ্রুত দেশ-দেশান্তরে যাতায়াত করছে এবং করোনার খবরাখবর মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ায় অতীতের মহামারীগুলোর তুলনায় করোনার প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ধর্ম-বর্ণ-অর্থ ও পরাশক্তি নির্বিশেষে সব মানুষকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক দুর্গতিতে ফেলে দিয়েছে। অতীতের মতো বর্তমানেও মানুষ বহু সংক্রামক, অসংক্রামক ও দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে চললেও করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিরাময় নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব আজ বেশ হিমশিম খাচ্ছে।
করোনায় মানসিক সুস্থতা অতীব জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন পরিবেশ থেকে মানবিক আচরণ। দেশ-বিদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা ও ক্ষয়ক্ষতির বেহাল চিত্র দেখে আস্থাহীনতায় আতঙ্ক, আশঙ্কা বেড়েই চলেছে, যা মানসিক অশান্তির কারণ। এ সময় মানসিক শান্তি বা মনের বল করোনার মতো ভয়াবহ মহামারী মোকাবিলার জন্য জরুরি। চীনের বাইরে বাংলাদেশসহ অনেক দেশে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও তৎপরতায় বিলম্ব ঘটায়, ক্ষেত্রবিশেষে সমন্বয়হীনতা দৃশ্যমান হয়ে ওঠায় আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে। এহেন আস্থাহীন পরিবেশেই সাধারণত তথাকথিত গুজবে আরও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ে। শুধু আহ্বান জানিয়ে ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে গুজব রটনা ও গুজবে কান দেওয়া বন্ধ হয় না, কঠিন বাস্তবতায় করোনা মোকাবিলায় গৃহীত ব্যবস্থার স্বচ্ছতায় ও আন্তরিক প্রয়াস প্রচেষ্টায় উন্নতি দৃশ্যমান হলে গুজব লাপাত্তা হবে। কান্ডারিকে হুঁশিয়ার করে দিতে নজরুলের ছিল সেই আহ্বান, ‘ওরা হিন্দু না মুসলিম? এই জিজ্ঞাসে কোন জন? কান্ডারি বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার’। গৃহীত সব পদক্ষেপে, খাদ্য সাহায্য বিতরণ ও আর্থিক প্রণোদনা বণ্টন বিতরণে পক্ষপাতিত্ব বা বিচ্যুতির পরিবর্তে সবাইকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আস্থা ও জাতীয় ঐক্য গড়া প্রয়োজন। প্রাচীনকাল থেকেই দেশ-কাল-পাত্রভেদে মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করতে সবার ভালোর জন্য জোরেশোরেই চলছে ‘সামাজিক দূরত্ব’ তৈরির কর্মসূচি। এটিকে ছোঁয়াচে রোগ করোনার বিস্তৃতি প্রতিরোধের মোক্ষম উপায়ও। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টিকারী মহামারী নিয়ন্ত্রণে, মানুষকে উদ্ধারে সামাজিক সংহতির ভূমিকাই অগ্রগণ্য। ১৮৪৪ সালে কুষ্ঠরোগীদের পরিবার ও সমাজ বিচ্ছিন্ন করে দ্বীপান্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কানাডার পূর্ব উপকূলীয় রাষ্ট্র নিউ ব্রান্সউইক। ইতিহাসের পাতায় রয়েছে দারুণ অমানবিক অনুরূপ অনেক ঘটনা। করোনা বিশ্বমানবতাকে সে রকম একটা সংকটের সামনে দাঁড় করিয়েছে।
চীনের মতো একটি ‘নিয়ন্ত্রিত সমাজ সংস্কৃতি ও অর্থনীতির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পুঁজিবাদী-ভোগবাদী উন্মুক্ত বাজার ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক অ্যাডাইসিভমিশ্রিত রাজনীতির রসে ভরা স্থূল (অবিস) সমাজ ও পেট মোটা অর্থনীতিতে কিংবা ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো তথাকথিত ওয়েলফেয়ার সমাজে পানপ্রিয় জাতির কাছে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি একই আবেদন বা অবদান রাখতে পারে না। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষীয় সংস্কৃতিতে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ও সামাজিক বন্ধনরীতি যেখানে সুদৃঢ়। করোনা মোকাবিলায় আক্রান্তের সেবা-শুশ্রুষায় চিকিৎসাকর্মীর সমানুভূতি, পারিবারিক নৈকট্য, সামাজিক সহানুভূতি যেখানে বিশেষ টনিক হিসেবে কাজ করবে। পুরো পরিবার এমনকি পাড়া-প্রতিবেশীকে নির্বাসনে (কোয়ারেন্টাইন) নিয়ে সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য রোগীকে একঘরে (আইসোলেশন)-করণের সামাজিক ভয় না ঢুকিয়ে বরং সবাইকে’ প্রত্যেকে আমরা পরের তরে এ ধরনের উপলব্ধিজাত সহানুভূতি সমাদরের হেতুতে যদি পরিণত করানো যায়, তাহলে ভয় ও দুশ্চিন্তা কেটে যাবে। শ্রমজীবী প্রবাসীরা দেশের জন্য রেমিট্যান্স আনেন, তারা দেশের সম্পদ বিদেশে নিয়ে যান না, তারাই বরং বিদেশের সম্পদ দেশের জন্য আনেন অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে। করোনার ক্রান্তিকালে কর্মহীন হয়ে করোনার হাত থেকে বাঁচার তাগিদে মৌলিক অধিকারে তারা দেশে স্বজনের কাছে ফিরেছেন, কিন্তু দেশে পৌঁছেই তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাধ্যতামূলক ‘কোয়ারেন্টাইনে’ রাখার স্বাগত সান্ত্বনার পরিবেশে পর্যাপ্ত ও প্রযোজ্য প্রযত্ন দেওয়া হলে তারা কোয়ারেন্টাইন এড়িয়ে সবার মধ্যে মিশে যেতে পারতেন না, পরে ‘অপরাধী’ সাব্যস্ত হয়ে জরিমানা গুনতে হতো না। এখনো দেশ-বিদেশ থেকে আগতদের খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে, তাদের বাসা-বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, আক্রান্তদের এলাকা লকডাউন করতে হচ্ছে। করোনায় সংক্রমিত হওয়ার সন্দেহে এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তাকে কার্যকর করতে সবাইকে সরকারি খরচে আলাদা থাকা-খাওয়া ও ‘একঘরে’ হয়ে অবস্থানের ব্যবস্থাসহ চিকিৎসা নিশ্চিত করলে, সেটিই মানবিক ও সামাজিকভাবে যৌক্তিক। চীন চটজলদি হাজার হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরি করেছিল করোনা প্রতিরোধের জন্য। স্বাস্থ্য ও জীবিকা পরস্পরের হাত ধরে চলে। তাই করোনা মহামারী থেকে জনগণকে রক্ষায় স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। করোনায় মৃত্যু হয়েছে কি না মৃত্যুর পর তার পরীক্ষা করা এবং তার ভিত্তিতে তার পরিবার এমনকি তার গ্রামকে লকডাউন করা, তার স্বাভাবিক জানাজা ও দাফন কাফন নিয়ে বিতর্ক ও ভয় তৈরি হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। এখন জানা গেছে, করোনায় মৃতব্যক্তি থেকে ভয় নেই জীবাণু ছড়ানোর।
চিন্তা থেকে কাজের উৎপত্তি। চিন্তা বা নিয়ত বা কর্মপরিকল্পনা পল্লবিত হয় আত্মায়। পরমাত্মা বা সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে এই আত্মার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ঠিক থাকা জরুরি। কেননা ভালো-মন্দ, ভূত-ভবিষ্যৎ জ্ঞান সৃষ্টিকর্তার এখতিয়ার। যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনী যেমন হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে নির্দেশনামতো অগ্রসর হয়, হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে রসদপ্রাপ্তিতে বিঘ্ন ঘটে, শত্রুর অবস্থানের নিশানা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে দিশেহারা হয়ে শত্রুর কব্জায় চলে যেতে পারে ওই বাহিনী। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, তার জীবনসংগ্রামে সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকেই সে পাবে প্রেরণা, শয়তানরূপী অশুভ তারণের উপায়, বিপদে সৃষ্টিকর্তার কাছে জানাবে ফরিয়াদ, চাইবে মার্জনা। এটাই তার পরিত্রাণ বা মুক্তি অর্জনের পথ। স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকতে থাকতে ক্লান্ত, শ্রান্ত ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সবার মাঝে ইতিমধ্যে এই আকিঞ্চন আকাক্সক্ষা জেগে উঠছে ‘দেখা হোক সবার সুস্থ সময়ে’। প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনাকে স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও সংকট হিসেবে দেখার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই, কিন্তু করোনার অভিঘাত মূলত যে অর্থনীতিতে, সে বিষয়টি দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। করোনার জন্ম ও বিকাশের এবং বিশ্বব্যাপী আঘাতের মূল প্রেরণা যে অর্থনৈতিক মোড়লিপনার খাত ও ক্ষেত্র দখল, পুঁজিবাদ ও বিশ্বায়নমুক্ত বাজার ব্যবস্থায় চপেটাঘাত, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথ পরিষ্কার করা এবং নব্যসামন্তবাদী পরাশক্তির উদ্ভব তা বুঝতে আর সময় নিচ্ছে না।
লেখক
সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান
