বিপণিবিতান খোলার সিদ্ধান্ত বিপর্যয় ঘটাতে পারে

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ০৪:১০ এএম

পোশাক কারখানা চালুর পর এখন বিপণিবিতান, শপিং মলসহ দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। বাংলাদেশে এখন করোনার প্রথম পর্যায়ের ঢেউ চলছে। আমাদের এখানে ধীরগতিতে এই ঢেউ উঠছে। এটার সুফল নিতে হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী লকডাউন কার্যকর করা উচিত ছিল। ইতালি ও বিদেশ থেকে আসা লোকজনের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন না করতে পারা ছিল বাংলাদেশের প্রথম ব্যর্থতা। তারপরও আমাদের সুবিধা হলো সংক্রমণের ধীরগতি। এটাকে সরকারের কাজে লাগানো উচিত ছিল। কিন্তু এই সংক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণ না করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পোশাক কারখানা এবং গতকাল ঈদের কেনাকাটার জন্য মার্কেট-বিপণিবিতান খোলা রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে সংক্রমণের গতি অনেক বাড়বে। যা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা আমাদের নেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারকে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে লকডাউন আরও কঠোর করার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, একই সঙ্গে ছুটি বাড়ানো আবার পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া, মার্কেট খুলে দেওয়া, ঈদের কেনাকাটার কথা বলা একেবারেই সাংঘর্ষিক। আমরা না মানছি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ না মানছি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশনা। তাদের অভিমত, সরকার ব্যবসায়ীদের পরামর্শে পোশাক কারখানা এবং দোকানপাট খুলে যে অর্থনীতির চাকা সচলের কথা বলছে, তা বুমেরাং হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ঢালাওভাবে মার্কেট খুললে কোনোভাবেই সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে পারবে না। আর পোশাক কারখানায় যদি সংক্রমণ বাড়ে তাতে ক্রয়াদেশ বাতিল হতে থাকবে, যাতে অর্থনীতির ওপর দুই ধরনের চাপ তৈরি হবে। জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়লে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোশতাক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ধরনের মহামারীতে প্রয়োজনীয় বা জরুরি ভিত্তিতে কিছু দোকানপাট খোলা হয়। কিন্তু এখানে ঈদের কেনাকাটার জন্য বিপণিবিতান, শপিং মল বা মার্কেট খোলার যে কথা বলা হচ্ছে তা হলো হাতে ধরে দ্বিতীয় ধাপের মহামারী ডেকে আনা। যা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট করেছিলেন। তিনিও বলেছিলেন, তাদের আর্থিক চাকা সচল রাখা দরকার। এত উন্নত একটা দেশ অথচ এখন সেখানে লাশ দাফনের লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এই মহামারী মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া দরকার ছিল। এই মহামারীর মধ্যে ঈদের কেনাকাটা কোথা থেকে আসে। ঈদের কেনাকাটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মকান্ড শুরু করবে। যা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, পোশাক কারখানা খোলা এবং এখন দোকানপাট খোলার ভয়াবহ মাশুল গুনতে হবে বাংলাদেশকে। যখন পোশাক কারখানার সংক্রমণের খবর বায়াররা জানবে তখন একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে। ইতালি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশ লকডাউনকে গুরুত্ব দেয়নি তাদের প্রত্যেকের ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, সরকার আসলে এই মহামারী মোকাবিলায় তেমন কোনো চেষ্টা না করেই প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ঈদের কেনাকাটার কথা বলা একদমই ঠিক হয়নি। এখন যেভাবে মানুষ ছুটবে তাতে কিছুই মানা হবে না। একদিকে ছুটি বাড়াচ্ছে আর অন্যদিকে সংক্রমণের বড় বড় ক্ষেত্র তৈরি করছে। তাতে সরকারের অদূরদর্শিতা এবং সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পাচ্ছে। এই মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে ব্যর্থ হলে ভয়াবহ পরিণতি হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত