চলতি বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা নির্ধারণ করেছে ফিতরা নির্ধারণ কমিটি। গতকাল সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে (খোলা জায়গা) জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সর্বোচ্চ ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০০ টাকা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার আগে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা ওয়াজিব (অবশ্যই পালনীয়)। পরিবারের প্রধান ব্যক্তি পরিবারের সব সদস্যের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করার ধর্মীয় বিধান রয়েছে।
ইফার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক আটা, যব, গম, কিশমিশ, খেজুর ও পনির ইত্যাদি পণ্যের যেকোনো একটি দ্বারা ফিতরা দেওয়া যায়। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, গম, কিশমিশ, খেজুর ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য পর্যালোচনা করে ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্যগুলোর যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজারমূল্য দিয়ে ফিতরা হিসেবে আদায় করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আটা বা গম দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা) বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য হিসেব করে ৭০ টাকা দিতে হবে। যব দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা) বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ২৭০ টাকা, কিশমিশ দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ১ হাজার ৫০০ টাকা, খেজুর দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ১ হাজার ৬৫০ টাকা, পনির দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্যগুলোর যেকোনো একটি পণ্য বা তার বাজারমূল্য দ্বারা ফিতরা আদায় করতে পারবে। উপরোক্ত পণ্যসমূহের স্থানীয় ও খুচরা বাজার এবং মানভেদে দাম কম-বেশি হতে পারে। তাই সে অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।’
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, শোলাকিয়া ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের প্রধান ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ, জাতীয় মুফতি বোর্ডের সদস্য সচিব মো. নূরুল আমীন, লালবাগ মাদ্রাসার প্রধান মুফতি মো. ইয়াহিয়া, মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ বিজ্ঞ আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন।
