করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটিতে (লকডাউন) স্থবির হয়ে পড়েছে সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। এতে কয়েক বছর ধরে চলা মন্দা প্রভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে দেশের সিমেন্ট শিল্পে। পণ্য বিক্রি বন্ধ থাকায় খাতটি দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট কাটাতে ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফের পাশাপাশি বিদ্যমান শুল্ক ও করে ছাড় চেয়েছেন সিমেন্ট শিল্পোদ্যোক্তারা।
সোমবার সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব সুবিধা চেয়েছে।
চিঠিতে বিসিএমএ সভাপতি ও ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির বলেন, এই খাতটি দেশের সিমেন্টের পুরো চাহিদা মিটিয়ে গত ১৫ বছর ধরে রপ্তানি করে আসছে। আর বছরে এই খাত থেকে শুল্ক-কর-ভ্যাট বাবদ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হয়। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত নানা সমস্যায় নাজুক নাজুক হয়ে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে এই শিল্পকে বাঁচাতে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের নির্ধারিত সব সুদ মওকুফ করতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে অনুরোধ জানায় বিসিএমএ। সুদ মওকুফ ছাড়াও অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া পৃথক আরেকটি চিঠিতে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং অগ্রিম আয়করের অসামঞ্জস্যতা দূর করার অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানির শুল্ক প্রতি টনে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়। বর্তমানে সিঅ্যান্ডএফ (চট্টগ্রাম) প্রতি টন ক্লিংকারের দাম ৫০ থেকে ৫১ ডলার। এর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক হলে তা ৩০০ টাকার কম হয়। তাই প্রতি টন ক্লিংকারে শুল্ক ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণই যুক্তিযুক্ত।
কাঁচামাল আমদানি ও সরবরাহে অতিমাত্রায় শুল্ক আরোপ করায় সিমেন্টের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ের জন্য সিমেন্টের বিক্রি মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বর্তমান বাজেটে আমদানি পর্যায়ে ৩ শতাংশ অগ্রিম আয়কর চূড়ান্ত দায় হিসেবে বিবেচনার বিধানটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়। এতে বলা হয়, ৩ শতাংশ অগ্রিম আয়কর চূড়ান্ত দায় হিসেবে নিলে উৎপাদনকারীকে অধিক মুনাফা করতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শিল্পে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
