সরকারি ছুটির মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান চালু রাখার কারণ ব্যাখ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারকে আজ জনগণের জীবনের পাশাপাশি জীবিকাও দেখতে হচ্ছে। মানুষকে বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনীতির চাকাও সচল রাখতে হবে। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শিথিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২১০টি দেশে করোনার বিস্তার ঘটেছে। আমাদের প্রতিবেশীসহ পৃথিবীর কোথাও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি। এ সংকটে প্রয়োজন চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মাঝে সমন্বয় গড়ে তোলা। চিকিৎসাবিষয়ক দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞদের নিয়ে এবং বিভিন্ন পেশাজীবী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনদের নিয়ে অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করা। তিনি বলেন, করোনার অভিন্ন টার্গেট দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই। টাস্কফোর্স বিভিন্ন দেশে হয়েছে, হচ্ছে। তবে সেটা ভ্যাকসিন রিলেটেড কিংবা চিকিৎসাবিষয়ক। রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য তথা জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এখন প্রয়োজন জনগণের পাশে দাঁড়ানো, নিজেরা সচেতন হওয়া, অন্যকে সচেতন করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি এ করোনা সংকটকালেও সরকারের কথায় কথায় ব্যর্থতার বিষয় নিয়ে বিষোদগার করছেন। অথচ তারা কখনো জনগণের রাজনীতি করেনি। দুর্যোগের সময়ও তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেনি বরং সরকারের সাফল্যকে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন রাখতে চাই এই দুর্যোগের সময় তারা কথামালার চাতুরি ছাড়া জনগণকে করোনা মোকাবিলায় কিছুই কি দিতে পেরেছেন? পার্শ্ববর্তী দেশে দেখুন, কংগ্রেস তহবিল গঠন করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে সরকারের সমালোচনা করার ‘চিরায়ত ভাইরাসে’ আজ বিএনপির রাজনীতি আক্রান্ত বলেও অভিযোগ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করছেন কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে ফোর্বস ও দ্য ইকোনমিস্টের মতো প্রেস্টিজিয়াস সাময়িকী তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে।
করোনাভাইরাসের চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বর্তমানে ৩১টি প্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ১৯ লাখ পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে ১৫ লাখের মতো; হাতে প্রায় চার লাখ আছে। পিপিই সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ঈদের আগে হতদরিদ্র কর্মহীন মানুষের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ৬৪ জেলায় শিশুখাদ্যের জন্য ৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
