খাদ্য সহায়তার দাবিতে রাজধানীর গাবতলীতে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কয়েকশ শ্রমিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তারা ঢাকার প্রবেশমুখে অবরোধ সৃষ্টি করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, এক মাসের বেশি সময় ধরে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও এ সময় মালিক ও সরকারি তরফে কোনো সহায়তা তারা পাননি। এতে পরিবারসহ নিদারুণ কষ্টে আছেন তারা। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে স্থানীয় সাংসদ আসলামুল হক তাদের সহায়তার আশ্বাস দেন।
তবে শ্রমিকরা বলছেন, সরকার একে একে সব কিছু শিথিলের পথে হাঁটছে, কিন্তু এখনো গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল আছে। এমনকি আসন্ন ঈদেও আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। কিন্তু হয় গাড়ি চালাতে দিতে হবে, নতুবা আর্থিক সাহায্য দিতে হবে।
শাহ আলম নামে একজন শ্রমিক বলেন, ‘রোজার মাস চলতাছে বউ বাচ্চার মুখে ঠিক মতন একবেলা খাওন দিতে পারতাছি না। আমরা সাহায্য চাই না। আমাদের গাড়ি চালা দিক। না হলে টাকা দিতে হইবো। না মরতে পারুম না।’
দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এ সময় থেকে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের হিসাবে দেশে এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক কর্মরত। এসব শ্রমিক দিন আনে দিন খায় ভিত্তিতে জীবিকা চালায়। তবে এক মাসের বেশি সময় আয় বন্ধ থাকায় ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়েছেন সবাই। ক্ষুধা মেটাতে অনেক শ্রমিক রিকশা চালিয়ে, সিগারেট বিক্রি করতে শুরু করেছেন। এর আগেও ঢাকা, সাভার, গাজীপুর, কুড়িগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় খাবারের দাবিতে বিক্ষোভে নামে পরিবহন শ্রমিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার পরিবহন শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর দিন পার করছেন। যারা কোনো ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য নয় তারা পড়েছে আরও বিপদে। এমন শ্রমিকদের কোনো ইউনিয়ন সহযোগিতা করছে না। সাহায্যের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরলেও পাচ্ছে না তারা। তবে যারা ঢাকার স্থানীয় ভোটার তারা সিটি করপোরেশনের কিছু সাহায্য পেয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিক সংগঠনগুলো কল্যাণ তহবিলের টাকা শ্রমিকদের দুর্দিনে ব্যয় করছে না। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, কল্যাণ তহবিলে যে টাকা থাকে তা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহার হয়।
ওসমান আলী জানান, লকডাউন শুরু হওয়ার পর দেশের ৬৪ জেলার প্রশাসককে চিঠি দিয়ে শ্রমিকদের সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে ফেডারেশন। তবে এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সড়ক পরিহন শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত সকল ইউনিয়ন অব্যাহতভাবে শ্রমিক সহায়তা করে যাচ্ছে। ঢাকার মহাখালী টার্মিনালে ১২ দিন পর শ্রমিকদের চাল ডাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিচ্ছে ফেডারেশন। তবে ঢাকার নগর পরিবহনে কর্মরত ও ইউনিয়নের সদস্য নয় এমন শ্রমিকরা সাহায্য পাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
ওসমান আলী বলেন, ঢাকার কোম্পানির বাসের মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দেয়নি। তারা কোথাও সাহায্য পাচ্ছে না। সরকার একটি টাকাও এ খাতের শ্রমিকদের দেয়নি। ঢাকায় যে চাঁদাবাজি হয় তার সঙ্গে মালিক সংগঠনগুলো যুক্ত। তারা কোনো সহযোগিতা করছে না। তিনি বলেন, আমরা ভিক্ষা চাই না। ওএমএসের চাল দেওয়া হোক শ্রমিকদের জন্য। প্রত্যেকটা বাস টার্মিনালে ওএমএসের ট্রাক পাঠানো হোক।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, লকডাউনের কারণে পরিবহন মালিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তারপরও আমরা শ্রমিকদের সাহায্য দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এটা যথেষ্ট নয়। এজন্য সরকারি সহায়তা লাগবে। সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি পেয়ে যাব।
