খুলনা ও হবিগঞ্জে বোরো ধান তোলা ব্যাহত

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ১২:৩৮ এএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্কে খুলনায় বোরো ধান কাটতে দেখা দিয়েছে কৃষি শ্রমিকের সংকট। অন্যদিকে, যে সামান্য শ্রমিক মিলছে তার জন্যও কৃষকদের গুনতে হচ্ছে অধিক পারিশ্রমিক। তারপরও কৃষক অতিকষ্টে ধান কাটতে পারলেও ঘরে তুলতে পারছে না। তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। রোদে শুকানোর জন্য কেটে রাখা ধান বৃষ্টির কারণে এখন মাঠেই নষ্ট হতে বসেছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জানায়, খুলনা অঞ্চলের মাঠে কৃষকের স্বপ্নের সোনালি বোরো ধান কাটার উৎসব চলছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ রোধে গৃহবন্দি থাকায় দেখা দিয়েছে কৃষি শ্রমিক সংকট। তার মধ্যে বাদ সেধেছে বৈশাখের বৈরী আবহাওয়া। কৃষক বোরো ধান কেটে কিছুটা রস টানার (শুকানো) জন্য মাঠেই রেখে দেন সেই কাটা ধান। কিন্তু এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রবল বর্ষণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ধানও ভাসতে শুরু করেছে। এতে কাদা মিশে ধান ঝরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত বিছালিও (খড়-কুটো) পচতে শুরু করেছে। অতি বর্ষণে খুলনার শস্য ভান্ডার বলে খ্যাত ডুমুরিয়া উপজেলার বেশিরভাগ জমিতে পানি জমে গেছে। এতে এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষকই ক্ষতির আশঙ্কায় ক্ষণ গুণছেন। বিশেষ করে এ উপজেলার সিংগাইর (সিঙ্গের বিল), বানিয়াখালি বিল, বামনদিয়ার বিল ও গোনালির বিলসহ অধিকাংশ বিলই পানিতে থৈ থৈ করছে। বৃষ্টির এ পানিতে কৃষকের স্বপ্নও ভাসছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

অপরদিকে, গত দুদিন ধরে বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হবিগঞ্জে বোরো ধান কাটা বিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় ১ লাখ ২০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ৪৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমি হাওড়ে ও ৭৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর উঁচু এলাকায় অবস্থিত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে প্রকাশ হাওড় এলাকায় ৯৮ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। কর্তনকৃত জমির বেশির ভাগই হচ্ছে ব্রি ২৮ ও হাইব্রিড জাতের ধান। 

গত দুদিন ঝড় বৃষ্টি থাকলেও এসব মাথায় নিয়েই ধান কাটছেন বলে জানালেন বানিয়াচঙ্গের কৃষক মোতাব্বির।

নবীগঞ্জের কৃষক আকলু মিয়া বলেন, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রজেক্টের জমিগুলোতে (যে জমিতে ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে সেচ করা হয়) এখনো ধান পাকেনি। যেভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে ধান পাকার আগে আকস্মিক বন্যা না হলেই হলো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তমিজ উদ্দিন খান বলেন, শাক সবজির জন্য বৃষ্টিপাত দরকার আছে। তবে ধান শুকাতে বৃষ্টিপাতের হার একটু কম হলেই ভালো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত