অবশেষে তদারকি বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করল ফেইসবুক। যাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির ‘সুপ্রিম কোর্ট’ হিসেবে তুলনা করা হচ্ছে ।
রয়টার্স জানিয়েছে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তিতে নোবেলজয়ীসহ মোট ২০ জনকে নিয়ে গঠিত এই বোর্ড কনটেন্ট বিষয়ে ফেইসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মার্ক জাকারবার্গের সিদ্ধান্তও বাতিলের ক্ষমতা রাখবে।
বুধবার ফেইসবুক জানায়, বোর্ডের সদস্যরা ২৭ দেশের নাগরিক। তারা অন্তত ২৯টি ভাষায় কথা বলতে পারেন।
ফেইসবুকের কো-চেয়ারের দায়িত্বে থাকা সদস্যরা এই কমিটি নির্বাচন করেছেন। এর মধ্যে নাম দেখা গেছে ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেল থর্নিং-স্মিটের। আছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফেডারেল সার্কিট জাজ মাইকেল ম্যাককনেল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ জামাল গ্রিন, কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি ক্যাটালিনা বোটেরো-মেরিনো এবং ইয়েমেনের শান্তিতে নোবেলজয়ী তাওয়াক্কল কারমানের মতো ব্যক্তিত্ব।
ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি রক্ষা করতে না পারা এবং বিতর্কিত পোস্ট দ্রুত না সরানোয় গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়েছে ফেইসবুককে। এরপর জাকারবার্গের সর্বময় ক্ষমতা নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিতে আলোচনা শুরু হয়। তখন মার্কিন প্রশাসন থেকে ফেইসবুককে তদারকি বোর্ড গঠনের চাপ দেয়া হয়।
ফেইসবুকের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রধান নিক ক্লিগ স্কাইপ ইন্টারভিউতে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘কাজ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সাফল্য আশা করছি না। মানুষ খুব প্রশংসা করবে সেটাও ভাবছি না।’
এই সদস্যরা ফেইসবুকের বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনো লেখা কিংবা ভিডিও নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তদারকি বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এই গ্রীষ্ম থেকেই তারা কাজ শুরু করবেন।
ক্লিগ জানিয়েছেন, বোর্ডের সদস্য আরও বাড়িয়ে ৪০ জনে নেয়া হবে। অন্তত ৬ বছর তাদের কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১৩০ মিলিয়ন ডলারের ফান্ড দেবে।
সদস্যরা পার্টটাইম ভিত্তিতে কাজ করবেন। ঠিক কত করে বেতন দেয়া হবে, তা ফেইসবুক জানায়নি। তবে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী সবাইকে পারিশ্রমিক দেয়া হবে।
