করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ শিক্ষানবিস (ইন্টার্ন) চিকিৎসকের মধ্যে ১৫ জনের প্রতিবেদন তিন দিনের ব্যবধানে নেগেটিভ এসেছে। গত সোমবার ওই ১৬ জন করোনা আক্রান্ত বলে জানিয়েছিল হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। কোনো উপসর্গ না থাকায় দ্বিতীয় দফায় নমুনা পরীক্ষার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ১৫ নারী চিকিৎসকের কেউই করোনায় আক্রান্ত নন। এ নিয়ে হাসপাতালসহ বিভিন্ন মহলে চলছে গুঞ্জন। করোনা পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় কোনো গলদ আছে কি না অনেকে সে প্রশ্নও তুলেছেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৫৩তম ব্যাচের ১৬ শিক্ষানবিস চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত বলে গত সোমবার রাতে নিশ্চিত হওয়া যায়। ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) নমুনা পরীক্ষায় ওই দিন তাদের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এরপর তাদের ইন্টার্ন হোস্টেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। কিন্তু ওই ১৫ নারী চিকিৎসকের মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ না থাকায় শুরুতেই এ নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি ফেইসবুক গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে চলে আলোচনা-সমালোচনা। একপর্যায়ে ওসমানী মেডিকেলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মইনুল হক ওই ফেইসবুক গ্রুপে লেখেন, ‘৫৩তম ব্যাচ তোমাদের আবার পরীক্ষা করা হবে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ নেগেটিভ হবে। আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি, অধ্যক্ষ সিওমেক।’ এরপর ওসমানী মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে আবারও ওই ১৬ চিকিৎসকের নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে জানানো হয়, তাদের মধ্যে ১৫ নারী চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত নন।
গতকাল শুক্রবার ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ১২ দিন আগে ঢাকায় আইইডিসিআরে প্রেরণ করা হয়েছিল। গত সোমবার রাতে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, তারা করোনা পজিটিভ। এরপর গত মঙ্গলবার আবারও তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ওসমানীর ল্যাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষায় তাদের করোনা নেগেটিভ এসেছে। এখন আবারও পরীক্ষা করা হবে এবং ফল নেগেটিভ হলে তাদের করোনামুক্ত ঘোষণা করা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘ঢাকা এবং সিলেট দুই জায়গাতেই যথাযথ নিয়ম ও সতর্কতা অবলম্বন করেই এদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে সেটা তাদের ব্যাপার, আমার কিছু বলার নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে এই ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহের মাঝখানের ব্যবধান ১২ দিন। তাই আগের নমুনায় ফল পজিটিভ এলেও পরের নমুনায় ফল নেগেটিভ আসতেই পারে। এই সময়ে তারা কোনো উপসর্গ ছাড়াই করোনা কাটিয়ে উঠেছেন।’
