এ সপ্তাহেই বাজারে আসছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ রেমডেসিভির। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড তাদের উৎপাদিত ওষুধটি গতকাল শুক্রবার বাজারজাত করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এসকেএফ উৎপাদিত রেমডেসিভির বাণিজ্যিক নাম ‘রেমিভির’।
এসকেএফের মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ওষুধটি এখন বাজারজাতের কাজ চলছে। একেকটি ভায়ালের দাম বড়বে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। আশা করা যাচ্ছে আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে দেশের কভিড কোডেট হাসপাতালগুলোতে এই ওষুধ পাওয়া যাবে। প্রথমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, মার্চের শেষের দিকে ওষুধ প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিয়ে কাজ করা হয়। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় কাজটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে করেছি।
তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, এই ওষুধটি ইনজেকশন প্রক্রিয়ার, অর্থাৎ রোগীর শরীরে সুঁইয়ের মাধ্যমে প্রবেশ করাতে হয়। সাধারণত যেসব রোগীর অবস্থা গুরুতর, তাদের জন্যই এই ওষুধ । পাঁচ দিন ও দশ দিন এই দুই ধরনের মেয়াদে বা কোর্সে ওষুধটি প্রয়োগ করার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কর্র্তৃপক্ষ।
মুজাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, পাঁচ দিনের মধ্যে যাদের রোগ সারবে না, তাদের ক্ষেত্রে দশ দিনের কোর্সের পরামর্শ দেওয়া হবে। যারা পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসা নেবেন তাদের জন্য রেমডেসিভিরের ৬টি ভায়াল, আর দশ দিনের চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ১১টি ভায়াল প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত আটটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিকে ‘রেমডেসিভির’ উৎপাদন করার অনুমতি দিয়েছি। তারা কাজ করছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওষুধ বাজারে আসবে। তিনি জানান, বেক্সিমকো, এসকেএফ, ইনসেপ্টা, স্কয়ার, বিকন, হেলথকেয়ার, অ্যাকমি ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসকে ওষুধ প্রস্তুতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো আর এসকেএফের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, এসকেএফ এরই মধ্যে ওষুধ তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। আমরা প্রথমে শুধু সরকারি হাসপাতালে এই ওষুধ সরবরাহের কথা চিন্তা করেছিলাম। এখন বেসরকারি পর্যায়েও বাজারজাতকরণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় এই ওষুধের প্রয়োজন হবে, তাই সীমিত পরিসরে এর জোগান দিলে হয়তো অনেক মানুষই ওষুধ পাবেন না। তাই আমরা এটি বাজারজাতকরণের অনুমোদন দিচ্ছি। তবে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ যেন বিক্রি করা না হয়, এই শর্তে ওষুধ বাজারজাত করা হবে। সরকারিভাবে যেন এই ওষুধের বিপণন করা হয়, আমরা সেই পরামর্শ দিয়েছি। তবে তার মানে এই নয় যে এটি বেসরকারিভাবে দেওয়া যাবে না। একমাত্র শর্ত হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রিতভাবে এই ওষুধ বাজারে ছাড়া হবে। ফার্মেসিতে খুচরা কেনার জন্য সেভাবে পাওয়া যাবে না এই ওষুধ।
প্রসঙ্গত, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি এই ওষুধ সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) গত সপ্তাহে করোনার ওষুধ হিসেবে রেমডেসিভিরকে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। জাপানের ওষুধ প্রশাসন ৭ মে থেকে ওষুধটি করোনা রোগীদের ওপর প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। তবে কবে নাগাদ জাপান এর উৎপাদনে যাবে, তা এখনো ঠিক হয়নি বলে সে দেশের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস ওষুধটি উৎপাদনের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যোগাযোগ করছে বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোয় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
রেমডেসিভির উৎপাদনের একচেটিয়া স্বত্ব রয়েছে গিলিয়েডের, অর্থাৎ শুধু তাদেরই এই ওষুধ তৈরির অধিকার রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় নাম থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী এই ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে ওই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ওপর প্রযোজ্য হবে না।
জানা গেছে, বেক্সিমকো এবং বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ওষুধও দ্রুত বাজারে আসবে।
