খামারে প্রজননের জন্য পালা একটি পুরুষ ছাগল (পাঁঠা) বিনা টাকায় না দেওয়ায় গতকাল সোমবার সিলেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নামধারী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আহত কর্মকর্তা কাজী আশরাফুল ইসলামকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) আমিনুল ইসলাম জানান, সিলেট ছাগল উন্নয়ন খামারের জন্য উন্নতজাতের কয়েকটি পাঁঠা আনা হয়েছে। সোমবার বিকেলে নগরীর টিলাগড় এলাকার কয়েকজন যুবক এসে নিজেদের আওয়ামী লীগ নেতা, সিলেট জজকোর্টের এপিপি রণজিত সরকারের লোক পরিচয় দিয়ে একটি ছাগল বিনা টাকায় তাদের দিয়ে দিতে বলেন। তারা নিজেদের ছাত্রলীগ বলেও পরিচয় দেন এবং ছাগলটি রণজিত সরকার খেতে চান বলে জানান। এ সময় আমিনুল ইসলাম এভাবে ছাগল দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের বলেন, এই ছাগল প্রজননের জন্য আনা হয়েছে। তখন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রণজিত সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে ডিডিকে চাপ দেন। কিন্তু তিনি কথা বলেননি। এরপর ছাত্রলীগের আরও নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে ডিডিকে গালিগালাজ করেন এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কাজী আশরাফুল ইসলামকে বেদম মারপিট করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একটি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ নেতা কনক পাল অরূপের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা রণজিত সরকার তার নামে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে মারপিট ও বিনা টাকায় ছাগল নেওয়ার চেষ্টার কথা অস্বীকার করেছেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। আমি বিষয়টি সমঝোতার ব্যবস্থা করছি।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহ পরান থানার ওসি আবদুল কাইয়ুম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বহিরাগত কাউকে পায়নি। তবে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের লোকজন জানিয়েছেন, ছাগল না দেওয়ায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে মারপিট করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
