শিল্প ও সেবা খাতের পর এবার মাঝারি শিল্পের ঋণের ক্ষেত্রেও শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ রেটিং ছাড়াই প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ দেওয়া যাবে। তবে খেলাপি ও তিনবারের বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করা গ্রাহকরা এ ঋণের সুবিধা পাবেন না। কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় গতকাল মঙ্গলবার মাঝারি শিল্পের জন্য সিএমএসএমই খাতের বিশেষ ঋণ বিতরণের শর্ত শিথিল করে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের তহবিল থেকে শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ব্যাংকের ‘গাইডলাইনস অন ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং সিস্টেম ফর ব্যাংকস’ (আইসিআরআরএস) ছাড়াই ঋণ বিতরণের সুবিধা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার মাঝারি শিল্পের জন্য প্রণোদনার এই ঋণ সুবিধা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত ১৩ এপ্রিল সিএমএসএমই খাতের প্রণোদনার ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিল নীতিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে মাঝারি ঋণগ্রহীতার আইসিআরআরএস রেটিং ন্যূনতম মার্জিনাল বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে গতকাল এ শর্ত শিথিল করে আইসিআরআরএস রেটিং ছাড়াই প্রণোদনার বিশেষ ঋণ বিতরণ করা যাবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।
গতকালের জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সরবরাহে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে আইসিআরআরএসের মাধ্যমে গ্রাহকের রেটিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি মাঝারি শিল্পের উৎপাদন/সেবা কার্যক্রম পুনরায় দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ আইসিআরআরএস রেটিং না করেই সুবিধা প্রদান করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রণোদনা তহবিলের ঋণ দিতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রাহক নির্বাচন করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে জারিকৃত নির্দেশনানুযায়ী খেলাপি ঋণগ্রহীতারা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন না। এছাড়া কোনো ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের কোনো ঋণ বা বিনিয়োগ মন্দ/ক্ষতিজনকমানে শ্রেণিকৃত হওয়ার পর তিনবারের বেশি পুনঃতফসিলকৃত হলে তারা এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।
গ্রহীতার ঋণের ঝুঁকি পরিমাপের জন্য ২০১৯ সালে আইসিআরআরএস নামে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নীতিমালার আলোকে ঋণ সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা হিসেবে গ্রহীতার সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংককে অভ্যন্তরীণ ঋণঝুঁকি নিরূপণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ঋণঝুঁকি মানের স্কোর মার্জিনাল (১০০ এর মধ্যে ৬০-৭০) হতে হবে।
কোনো গ্রাহক ‘এক্সিলেন্ট’ (গড় পয়েন্ট ৮০ বা তার চেয়ে বেশি) রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে ঋণ দিতে পারবে। এ ধরনের রেটিং পাওয়া গ্রাহকদের ভালো আয় থাকায় শক্তিশালী ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা রয়েছে। অভিজ্ঞতা ও ব্যবস্থাপনায় খুব ভালো দক্ষ রয়েছে। ‘গুড’ (গড় পয়েন্ট ৭০, কিন্তু ৮০-এর নিচে) রেটিং পেলেও ব্যাংক তাকে ঋণ দিতে পারবে। আর ‘মার্জিনাল’ (গড় পয়েন্ট ৬০, কিন্তু ৭০-এর নিচে) রেটিংধারী গ্রাহককে পুরনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ব্যাংককে। এ বিভাগটিতে সম্ভাব্য দুর্বলতা রয়েছে, যা ম্যানেজমেন্টের ঘনিষ্ঠ মনোযোগের দাবি রাখে। ‘আনএকসেপ্টেবল’ (৬০ পয়েন্টের নিচে) রেটিংধারী গ্রাহকের আর্থিক স্বাস্থ্য খুবই দুর্বল ও ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা নেই। ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক সমস্যা রয়েছে এসব গ্রাহকের। কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো, যদি না আগের ঋণ শতভাগ নগদ পরিশোধ হয় অথবা জামানত দিয়ে ঋণটি আচ্ছাদন করা হয়। এই শ্রেণির গ্রাহকের আগের ঋণ সর্বোচ্চ দুবার নবায়ন বা বর্ধিত করা যাবে।
আইসিআরআরএস নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক গুণগত রেটিংয়ে যত নম্বরই পাক না কেন, পরিমাণগত রেটিংয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে তাকে আনএকসেপ্টেবল রেটিং দেওয়া হবে।
