সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনাভাইরাস বাংলাদেশে তেমনভাবে মৃত্যু ঘটাচ্ছে না

আপডেট : ১৪ মে ২০২০, ০৪:২৪ এএম

করোনাভাইরাস ভয়ানক কোনো রোগ নয় এবং এটি বাংলাদেশে তেমনভাবে মৃত্যু ঘটাচ্ছে না বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘অনেক রোগ আছে, যে রোগে অনেক লোক মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু পারতপক্ষে এই রোগটি, এই ভাইরাসটি আমি মনে করি না এইভাবে কোনো ভয়ানক রোগ। করোনাভাইরাস বাংলাদেশে তেমনভাবে মৃত্যু ঘটাচ্ছে না।’ গতকাল বুধবার দেশে ২৪ ঘণ্টায় এ যাবত সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের দিনে মন্ত্রী এ মন্তব্য করলেন।

এদিন রাজধানীর মহাখালীর বিসিপিএস মিলনায়তনে নতুন চিকিৎসক ও নার্সদের যোগদান অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, করোনায় প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। অনেকের মধ্যে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। এই রোগে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। স্বাভাবিক চিকিৎসাতেই তারা ভালো হয়ে যায়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাসে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬৯ জন এবং রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার। মৃত্যুর এই হিসাব অনুযায়ী দেশে করোনা শনাক্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫-এর মতো, যা ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোর চেয়ে অনেক কম। তবে সরকারি হিসাবে করোনায় এখন পর্যন্ত ২৬৯ জনের মৃত্যু হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ বিভাগের বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি (বিপিও) টিম দাবি করেছে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৯২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার চিকিৎসক ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন নতুন ২ হাজার চিকিৎসকের পদায়ন শেষে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। তবে করোনাভাইরাস সংকটের কারণে কর্মশালায় ৪০ জন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। সদ্য যোগদান করা চিকিৎসকদের উদ্দেশে জাহিদ মালেক বলেন, ‘কভিডের কারণেই আপনাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থে এই কভিড আপনাদের ভাগ্যই খুলে দিয়েছে। কাজেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবায় পিছপা হবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিজ পরিবারের একজন সদস্য ভেবে সেবা দেবেন।’

নিয়োগপ্রাপ্তদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা কভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা করবেন। নন-কভিড রোগীর চিকিৎসাও আপনাদের করতে হবে। চিকিৎসার মধ্যে কোনো তফাৎ করা যাবে না, সবাই রোগী।’

মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয় তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা বিরল ঘটনা। খুব শিগগিরই আমাদের আরও বেশ কিছু টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এসব নিয়োগ হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান নিঃসন্দেহে আরও বৃদ্ধি পাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত