বাংলাদেশে খালি গ্যালারিতেও খেলতে ইচ্ছুক ডু প্লেসি

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ০১:৩৮ এএম

খেলা না থাকায় বাড়িতে নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। অনেকে অবসর সময় কাটালেও তামিম ইকবাল কিন্তু বসে নেই। বাংলাদেশের ব্যাটিং আইকন দারুণ একটি কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালে মানুষকে চাঙ্গা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করছেন লাইভ শো। তার সঙ্গে আড্ডায় থাকেন ক্রিকেটের বর্তমান ও সাবেক তারকারা। এতদিন দেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন তামিম। এবার বিদেশি ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নিজের লাইভ শোতে। তাতে শুরুতেই সাড়া দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সদ্য সাবেক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। বুধবার তার সঙ্গে ৩৪ মিনিটের আলাপকালে ক্রিকেট নিয়ে হয় আড্ডা তামিমের। করোনা পরিস্থিতি, দর্শকশূন্য মাঠে খেলা, ডু প্লেসির বিপিএলে খেলার সম্ভাবনা, অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাসহ আরও নানা বিষয়ে আড্ডা হয় তাদের।

আড্ডা শুরুর আগে তামিম জানিয়েছেন ফাফের সঙ্গে তার দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধুত্বের কথা। ভিডিও লাইভের শুরুতেই ফাফ ‘রমজান মোবারক’ জানান তামিমকে। এরপর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একে অপরের কাছে জানতে চান। সেই প্রসঙ্গের পরই ক্রিকেট বিষয়ে নানা আলাপ শুরু হয় তামিম ও ফাফের। আলাপের একপর্যায়ে তামিমের কাছে ডু প্লেসির প্রশ্ন ছিল দর্শকশূন্য গ্যালারির বিষয়টি। ডু প্লেসি জানান, এই সময়ে বাংলাদেশ, ভারতের মাটিতে খালি মাঠে খেলতে প্রস্তুত তিনি। কারণ ক্রিকেটে স্বাগতিক দর্শককে সবসময় দলের দ্বাদশ ব্যক্তি ধরা হয়। দর্শকদের সমর্থন স্বাগতিক দলের জন্য দারুণ কাজে দেয়। আর বাংলাদেশ-ভারতে স্বাগতিক দর্শকরা কী ভূমিকা রাখে তা ডু প্লেসির জানা। তাই এই সময়ে বাংলাদেশ-ভারতের মাটিতে খালি গ্যালারিতে খেলার কথা বললেন ডু প্লেসি। খালি মাঠে তামিমের কেমন লাগবে, জানতে চাইলেন ডু প্লেসি ‘এটা আমি একদমই পছন্দ করব না। মনে হবে সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং অনুশীলনের মতো।’ এ সময় বাংলাদেশের দর্শকদের প্রশংসাও করেন ডু প্লেসি। বলেন, ‘খেলাটা কঠিন তোমাদের ওখানে। দর্শকরা অনেক উন্মাদনা তৈরি করে।’ তামিম দর্শকদের প্রশংসায় বলেন, ‘আমাদের দর্শকরা খুবই আবেগী। খুবই ভালো।’

ডু প্লেসির কখনই বিপিএলে খেলা হয়নি। নিয়মিত আইপিএল দল চেন্নাই সুপার কিংসে খেলা এই ব্যাটসম্যান অবশ্য তামিমকে বলেছেন সুযোগ পেলে বিপিএলে খেলবেন। তামিম তাকে আশ্বস্ত করেন বিপিএলের মান নিয়ে। এবং আমন্ত্রণ জানান নিজ দলে খেলার, ‘বিপিএল দুর্দান্ত আসর, পরিবেশ খুবই চমৎকার থাকে। তোমাকে কিন্তু কথা দিতে হবে, এবার বিপিএলে আসবে এবং অবশ্যই আমার দলে খেলবে। খুব ভালো টুর্নামেন্ট, তুমি উপভোগ করবে।’ তামিমের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

দুই তারকার মাঝে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়েও কথা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছিল আলোচনার কেন্দ্র। তামিমের প্রশ্নে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আর সবার মতো সন্দেহ প্রকাশ করলেন ডু প্লেসি। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শুনিয়েছেন কিছু কঠিন সমীকরণের কথা। ‘আমি নিশ্চিত না আসলে (বিশ্বকাপ হবে কি-না)। ভ্রমণ একটা বড় ইস্যু হবে অনেক দেশের জন্য। কিছু কিছু দেশে তো আগামী ডিসেম্বর, এমনকি আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে (উড়োজাহাজ চলাচল)।’

ভাড়া করা বিমানে দলগুলোকে অস্ট্রেলিয়ায় উড়িয়ে নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করার আলাপও চলমান। তবে এতেও সংকট দূরীভূত হচ্ছে না। স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে এক দেশ থেকে আরেক দেশে গেলে যেকোনো মানুষকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের আইসোলেশনে যেতে হচ্ছে। তেমন হলে ক্রিকেটারদেরও বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে অন্তত দুই সপ্তাহ অনুশীলন বাদ দিয়ে বন্দি থাকতে হবে হোটেলে, মনে করিয়ে দেন ডু প্লেসি, ‘এমনকি অস্ট্রেলিয়া অন্য দেশের মতো অতটা আক্রান্ত না হলেও কিছু ব্যাপার থেকে যাবে। যেমন বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত থেকে মানুষকে যেতে হবে ওদের দেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এবং শুধু তা-ই নয়, ওখানে গিয়ে দুই সপ্তাহ আইসোলেশনে থাকা লাগবে। আর আমি জানি না যে, দক্ষিণ আফ্রিকা কবে আবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।’

আড্ডার শুরুতে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের স্মৃতির কথাও জিজ্ঞাস করেছেন তামিম। জবাবে সেই স্মৃতি ফিরেয়ে ডু প্লেসি বলেন, ‘আমি জীবনে কোনো প্রোটিয়া দলকে এতটা ভেঙে পড়তে দেখিনি। ওই ম্যাচ শেষে আমরা কেউই কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছিলাম না। দেশে ফেরার আগে আমাদের আরও দুদিন নিউজিল্যান্ডে থাকতে হয়েছিল। ওই সময়ে আমরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না। অনেক পরে গিয়ে এটা স্বাভাবিক হয়েছে।’ আড্ডায় বাংলাদেশ দলের উন্নতিতে প্রশংসা করেছেন ডু প্লেসি। জানান, ‘আগে তোমাদের দল একজন বা দুজনের ওপর নির্ভর ছিল। এখন সেটা নেই। পুরো দল ভালো করছে। পেসাররা, স্পিনাররা এমনকি ব্যাটসম্যানরাও। এতে দলটা দারুণ ব্যালান্সড হয়েছে বলতেই হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত