ঢক্কর ঢক্কর ঢক্কর তাঁতের সেই শব্দ এখন আর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার শ্রীধরপুর ও বাঁড়ৈখালীতে পাওয়া যায় না। হাজারো তাঁতির শোরগোল নেই, নেই আগের সেই কোলাহল। কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে শ্রীনগরের তাঁতশিল্প। এখন আর সেখানে তাঁতের শাড়ি বুনন করতে দেখা যায় না। শুধু তাঁতের লুঙ্গি বুনন করেই উপজেলার দুটি গ্রামের শতাধিক পরিবার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। ধরে রেখেছেন বাপ-দাদার পেশা। তবে করোনার থাবায় ঈদ সামনেও নেহাত বেকার সময় যাচ্ছে সেখানকার তাঁতিদের।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১০০ বছর আগে কসুমুদ্দিন সিকদার নামে এক ব্যক্তি এ অঞ্চলে প্রথম তাঁতশিল্প গড়ে তোলেন। সে সময় শ্রীধরপুর ও বাঁড়ৈখালীতে দেড়-সহস্রাধিক পরিবার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। কসুমুদ্দিন সিকদার মারা যাওয়ার পরও বংশপরম্পরায় তাঁতশিল্প ধরে রাখে। তবে তাঁতশিল্পের আগের সেই দিন এখন আর নেই। বর্তমানে শতাধিক পরিবার কোনো রকমে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে তৈরি লুঙ্গির বাজার দখল করে নেওয়ার পাশাপাশি পুঁজির অভাবে শ্রীধরপুর ও বাঁড়ৈখালীর তাঁতশিল্পে নেমে এসেছে দুর্দিন। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এ বছর ঈদের সামনে ঘরে ঘরে বন্ধ রয়েছে তাঁত আর তাঁত। তাছাড়া উপজেলার শিবরামপুর হাট বন্ধ থাকায় তাঁতের তৈরি লুঙ্গির কেনাবেচা নেই। এ অবস্থায় বেকার হয়ে পড়েছেন তাঁতিরা। বছরের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন কি না সেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলার বাঁড়ৈখালী গ্রামের তাঁতি ইসরাফিলের ১২টি তাঁত রয়েছে। করোনায় শ্রমিক না পাওয়ায় ভাই, চাচা ও নিজে মিলে মাত্র ৪টি তাঁত চালু রেখেছেন। তিনি বলেন, গেল বছর ঈদে ১৫ লাখ টাকার লুঙ্গি বিক্রি করেছি। আর এ বছর দুই লাখ টাকার লুঙ্গি বিক্রি করতে পারব কি না জানা নেই।
বাঁড়ৈখালীর সোফিয়া বেগম একাই একটি তাঁতে বুনে চলেছেন লুঙ্গি। তার সবেমাত্র একটি তাঁত চালু রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন- দুর্দশার মধ্যে দিন কাটলেও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি তাঁতিরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা আক্তার বলেন, তালিকা করে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে বাঁড়ৈখালী ইউনিয়নের তাঁতিদের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি তারা না পেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই তাদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
