অক্সফোর্ডের ল্যাব থেকে ফিরে ভ্যাকসিনের খবর দিলেন উপস্থাপক

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ১১:৫১ এএম

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি যে ল্যাবে চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিনটি পরীক্ষা করছে সেখানে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া একজন উপস্থাপক জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের ভেতরই ব্রিটেনে করোনার প্রতিষেধক তৈরি হবে।

মাইকেল মোসলে নামের ওই উপস্থাপক পেশায় চিকিৎসকও। প্রামাণ্যচিত্র তৈরিতে তার বেশ সুনাম আছে। বার কয়েক ব্রিটেনের প্রথম সারির পুরস্কার জিতেছেন।

সম্প্রতি তিনি পোর্টন ডাউন পরীক্ষাগারে যান। সেখান থেকে ফিরে সানডে মিররকে বলেছেন, ‘সবার বিশ্বাস বছরের শেষ নাগাদ আমরা ভ্যাকসিন পাচ্ছি। ভ্যাকসিন তৈরি করতে সাধারণভাবে তো ১০ বছর লাগে। কিন্তু এখন যে গতিতে সবকিছু ঘটছে তা বিস্ময়কর।’

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের (পিএইচই) সহকারী পরিচালক মাইলস ক্যারলের সঙ্গে দেখা করেন ৬৩ বছর বয়সী মোসলে। বিজ্ঞান বিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বিবিসি হরাইজন’র পর্বের জন্য সেখানে যান তিনি। মঙ্গলবার এটি প্রচারিত হওয়ার কথা।

‘আমাদের বিজ্ঞানীরা ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। এটি দারুণ ব্যাপার।’

‘আমেরিকা এবং চীনা এগিয়ে থাকলেও ব্রিটিশ ভ্যাকসিন লিডাররা এখন দৃশ্যপটে,’ মন্তব্য করে মোসলে বলেন, ‘আমি একজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, অন্তত একটি ভ্যাকসিন চলতি বছরে আসবে।’

এই ল্যাবেই সম্প্রতি একটি অ্যান্টিবডি টেস্ট হয়েছে। যেটিকে ‘শতভাগ নির্ভুল’ বলা হচ্ছে।

মোসলে সর্বশেষ ২০১৬ সালে বিবিসির অনুষ্ঠানের জন্য এই ল্যাবে যান। সেই স্মৃতি মনে করে বলছেন, ‘তখন বিজ্ঞানীরা মহামারীর বিষয়ে একই কথা বলেছিলেন।’

স্বাভাবিকভাবে নতুন একটি রোগের ভ্যাকসিন তৈরি করতে কয়েক বছর লেগে যায়। ডেঙ্গুর মতো অনেক রোগের ভ্যাকসিন আবার এখন পর্যন্ত তৈরি সম্ভব হয়নি। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। অনেকের শঙ্কা, করোনার ক্ষেত্রেও এমনটি হতে পারে।

মূল ব্যাপার হল সেপ্টেম্বর নাগাদ ব্রিটেনের ভ্যাকসিন কার্যকর প্রমাণিত হলেও এশিয়ার মতো অঞ্চলে আসতে আরও বেশ কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।

দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই চাডক্স১ এনকভ-১৯ তৈরি করতে চায় ভারত। দেশটির স্বনামধন্য ভ্যাকসিন প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান সিরাম ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে তারা এক বছরে ৬০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে।

কোনো প্রতিষেধক না থাকা কভিড-১৯ রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে ব্রিটেনসহ আরও অনেক দেশ উঠেপড়ে লেগেছে। এর মধ্যে আমেরিকায় ১২টি কোম্পানি চেষ্টা করছে। চীনে হিউম্যান ট্রায়ালে আছে  পাঁচটি। আমেরিকার সঙ্গে যৌথভাবে জার্মানি আরেকটি নিয়ে কাজ করছে।

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা আগেও একাধিকবার বলেছেন, সেপ্টেম্বরের ভেতর তাদের ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত