১৬ মে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপ্যাব)-এর সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন ইরেশ যাকের। দেশ রূপান্তরকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের কারণ জানালেন তিনি। কথা বলেছেন সুদীপ্ত সাইদ খান
ঘরবন্দি সময়...
প্রায় দেড়মাস হয়ে গেল আমি বাসায় আছি। খারাপ লাগছে না। পরিবারকে সময় দিচ্ছি। বাসায় বসে অফিস করছি। বাসায় বসে কাজ করতে কিছুটা কষ্টও হচ্ছে। বাণিজ্যিক দিক থেকেও কিছুটা লস হচ্ছে। তারপরও সুস্থ আছি এটাই বড় বিষয়।
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত...
হ্যাঁ, সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ চেয়ে কমিটির কাছে আবেদনপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি কমিটি যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
পদত্যাগের নেপথ্যে...
আমরা তো অনেক আলোচনা করে অনেক কষ্ট করে সংগঠনের জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সম্প্রতি কয়েকজন আর্টিস্ট শ্যুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, শ্যুটিং আবার কবে থেকে শুরু করা যায়, এসব নানা বিষয় নিয়েই সিদ্ধান্তে এসেছিলাম। দেখলাম, আমরা যেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সব সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছি। আমার কাছে মনে হয়েছে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত যদি সদস্যরা সহজভাবে মেনে নিতে না পারে তাহলে সেটা নেতাদেরই ব্যর্থতা। সেই জায়গা থেকে আমি চাচ্ছিলাম, আমি না হয়ে যদি অন্য কেউ নেতৃত্বে থাকেন তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত হয়তো আমাদের সদস্যদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হবে। ওই জায়গা থেকেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া।
কমিটি আপনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করলে
এখনো তো আলোচনা করিনি। তারা আগে আলোচনা করুক। তারপর দেখি, কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর বাকি সবকিছু নির্ভর করছে।
চলমান কাজে ব্যাঘাত ঘটবে কি না?
করোনার এই সময়ে মানুষদের সাহায্য করা, অনুদান জোগাড় করা, ত্রাণ জোগাড় করা, সবকিছুই তো করছি। এই কাজগুলো আমি করে যাব। পদে না থাকলেও সদস্য হিসেবে যতদিন সংগঠনের সঙ্গে আছি, সেই কাজগুলো করে যাব। ফলে কোনো কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না বলে মনে করি।
দায়িত্ব পালন নিয়ে...
টেলিপ্যাবের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা সব কাজই ঠিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। আমাদের যে পরিবর্তনগুলো আনা দরকার সেগুলো করার চেষ্টা করেছি। অনেক কিছুই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। করোনার কারণে হয়তো সেগুলোর কাজ থেমে গেছে। তবে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না।
দীর্ঘদিনের কোনো আক্ষেপ ছিল?
পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের কোনো আক্ষেপ ছিল না। আমার কথা হচ্ছে নেতৃত্বকে সবসময়ই বলিষ্ঠ হতে হবে। সে জায়গা থেকে একটা ক্রিটিক্যাল মুহূর্তে যদি আমাদের নেতৃত্ব আমাদের সদস্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, তখন সেটা যে সময়ই হোক না কেন দায়টা নেতাদের নিতে হবে। পদ আঁকড়ে ধরে থাকার কোনো মানে হয় না। সে জায়গা থেকেই এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আগের কোনো কর্মকান্ডের সম্পৃক্ততা নেই। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির শিকার হয়েই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
