নিজের ভেতর নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়েছে

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ০৭:০৮ এএম

জনপ্রিয় মডেল ও চিত্রনায়িকা আইরিন সুলতানা জানালেন ঘরবন্দি সময়ে নতুন উপলব্ধির কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

ঘরবন্দি সময় কেমন কাটছে?

প্রথমদিকে খুব ভালো কেটেছে। এখনো ভালোই আছি। তবে একটানা অনেক দিন ঘরে থাকার কারণে কিছুটা বিরক্তিও চলে এসেছে। ভালো না লাগলেও ভালো লাগানোর চেষ্টা করছি। আর ঘরে বসে নিজের কাজগুলো নিজেই করছি। এখন রোজার মাস হওয়ায় নামাজ-কালামও পড়ছি। এর বাইরে নাটক দেখছি, সিনেমা দেখছি। নানা ধরনের বই পড়ছি। নিজের মতো করেই সময় কাটানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রান্নাবান্নায়ও হেল্প করছি। সব মিলিয়ে ভালোভাবে সময়টুকু কাটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

পরবর্তী কাজের জন্য প্রস্তুতি...

এখন তো আর হাতে কাজ নেই। ফলে নিজেকে গোছানোরও কিছু নেই। বেসিক্যালি প্রজেক্ট সামনে থাকলে তখন প্রিপারেশন নেওয়া হয়। যেহেতু করোনা পরিস্থিতি শেষ হলে কাজে ফিরতে হবে সেজন্য নিজের শরীর ফিট রাখার চেষ্টা করছি। ঘরে বসে ওয়ার্ক আউট করছি নিজের জন্যই। ঘরে বসেই এক্সারসাইজ করছি। এসব মূলত সুস্থ থাকার জন্যই করা হচ্ছে।

ঘরে বসে কাজ...

সর্বশেষ একটি ওভিসির কাজ করেছিলাম। বলা যায়, বাসার বাইরে বসে করা শেষ কাজ ওটাই। মার্চের ২৫ তারিখে ওভিসির ডাবিং শেষ করে বাসায় ঢুকেছি। এরপর ঘরে বসেও তেমন কোনো কাজ করিনি। তবে বাড়িতে বসে ইন্টারভিউ দিচ্ছি। বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল চ্যানেলগুলোতে বাইট দিচ্ছি। সচেতনতামূলক ভিডিও বাইট নিচ্ছে অনেকেই। এর মধ্যেই কয়েকটা এনজিওর জন্য বাইট দিয়েছি। টিভি চ্যানেলগুলোর লাইভেও অংশ নিয়েছি। ঈদের জন্য সময় টিভির একটি ঈদ আয়োজনের রেকর্ডে অংশ নিয়েছি। ঈদের ফটোশুটও করেছি।

অসমাপ্ত কাজগুলো...

অসমাপ্ত কাজগুলো অসমাপ্তই রয়ে গেছে। অনন্য মামুন পরিচালিত ‘পার্টনার’ ও ‘আহারে জীবন’ সিনেমার কিছু কাজ বাকি আছে। একটা ডকুমেন্টারি ফিল্ম করেছিলাম, সেটাও ঝুলে আছে। ‘সেইফ লাইফ’ সিনেমার কাজও কিছু বাকি আছে। আর কমপ্লিট হয়ে আছে ‘রৌদ্র ছায়া’ আর ‘গন্তব্য’ সিনেমার কাজ। এছাড়া কলকাতার ‘শিবরাত্রী’ সিনেমায় আমার অংশের কাজও শেষ করেছি।

মানসিক প্রশান্তি...

ঘরে থেকে মানসিক প্রশান্তি অতটা না থাকলেও একদম যে বিষণœ হচ্ছি তাও কিন্তু নয়। বলতে পারেন নিজেকে বিষণœ হতে দিচ্ছি না। যে মানুষগুলো প্রতিদিন বাইরে যায়, ঘরে ফিরে তাদের যখন বন্দি করে দেওয়া হয় তখন নিজেকে মানিয়ে নেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেকে অনুপ্রাণিত করছি এভাবে যে, বাইরে গেলে যেমন আমি নিজে অসুস্থ হতে পারি, তেমনি আমার আশপাশের মানুষদেরও অসুস্থ করে তুলতে পারি। আমার আশপাশের মানষগুলোকে আমি অসুস্থ হতে দেব না। এ ব্যাপারগুলো আমার ভেতর ভীষণভাবে কাজ করছে। কারণ আমাদের দেশে আর্থিক ক্ষতি তো হচ্ছেই, সেই সঙ্গে যদি জানের ক্ষতিও করি সেটা ভালো দেখাবে না। আর যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে সেখানে যদি আমরা সবাই ঘর থেকে বের হতে শুরু করি তাহলে তা আরও ভয়ংকর রূপ নেবে। আমি চাই না একজন নাগরিক হিসেবে দেশের ক্ষতি করতে। কারণ আমি আক্রান্ত হলে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে।

নতুন উপলব্ধি...

করোনা পরিস্থিতিতে আমি পারসোনালি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এ পরিস্থিতি যদি না আসত তাহলে অনেক কিছু শিখতে পারতাম না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল, নিজেকে একা করে ফেলা। স্বাভাবিক সময়ে আমরা অনেক কাজই করি যেগুলো না করলেও হতো। সেটা এখন বুঝতে পারছি। স্বাভাবিক সময়ে আমি অনেক ছোটাছুটি করেছি, এখন উপলব্ধি করতে পারছি সেগুলো না করলেও হতো। তো এই নতুন উপলব্ধির বিষয়গুলো আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। এমনকি এ সময়ে এসে প্রেম-ভালোবাসা, বন্ধুত্বের মতো বিষয়গুলো জীবনে থাকা না থাকার গুরুত্ব নিয়েও তেমন ভাবছি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত