দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে অনেক বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে টিনের চালা উড়ে গেছে।
এদিকে ঝড়ের কারণে পাকা ধান শুয়ে পড়েছে, লিচু ও আম ঝড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে হিলি স্থলবন্দরসহ পুরো এলাকা।
আম্পানের প্রভাবে বুধবার দুপুর থেকেই সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। রাতে শুরু হয় ব্যাপক ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি। ঝড়ো হাওয়ার কারণে হিলি বাজারের অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ও অনেক বাড়ি ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে।
অনেক জায়গায় গাছ বিদ্যুতের তারের উপর ভেঙে পড়ায় রাত থেকেই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিল। এর মাঝে দুবার বিদ্যুৎ আসলেও বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি।
হিলির ফকিরপাড়া গ্রামের কৃষক জাহিনুর ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এবারে দেড় বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম, ধানে পাক ধরেছিল কিন্তু পুরোপুরি পাকতে আরো দুয়েক দিন সময় লাগতো। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আমার মাঠের সব ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। একে তো বৃষ্টি এর মধ্যে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ধান কাটতে লেগে পড়েছি। তবে মাটিতে শুয়ে পড়ার কারণে ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে ধান মাটিতে শুয়ে পড়ার কারণে আগে যে ধান কাটা মাড়াই করতে শ্রমিককে আড়াই হাজার টাকা দিতে হতো এখন তারা ৪ হাজার টাকা চাচ্ছে। একইভাবে তার মতো আরও অনেক কৃষকের পাকা ধান নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে অনেক গাছ থেকে আম ও লিচু ঝড়ে পড়ায় সেসব কৃষকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন বলেন, চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ৭ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ হয়েছিল। তার মধ্যে ইতোমধ্যেই ৮০ ভাগ জমির ধান কর্তন শেষ হয়েছে। মাঠে যে ২০ ভাগ ধান রয়েছে আম্পানের প্রভাবে এর ২০ ভাগের মতো জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। তবে এসব জমি থেকে যদি পানি দ্রুত নেমে যায় তাহলে সেসব ধানের তেমন একটা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ঝড়ের কারণে গাছ থেকে আমও লিচু ঝরে পড়েছে যার কারণে এসব ফসলের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নিরূপন করা সম্ভব হয়নি।
দিনাজপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ হিলি সাবজোনাল অফিসের এজিএম সাইদুর রহমান বলেন, আম্পানের কারণে বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুতের তারের উপর গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ায় সেগুলো সরাতে কিছুটা সময় লাগছে। গতকাল রাতে সদরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেও তা স্থায়ী হয়নি, আমাদের মূল লাইন চালু করা যাচ্ছে না, কোথায় যে সমস্যা সেটিও এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি অচিরেই সমস্যা সমাধান করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।
