পোশাককর্মী মৌসুমী আক্তারের মরদেহ দাফনে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বাধা প্রদানের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, পোশাককর্মী মৌসুমী আক্তারের মরদেহ দাফন নিয়ে তুলকালামের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতের বিরুদ্ধে মৌসুমীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার প্রাথমিক সতত্যা মেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে মৌসুমীর মরদেহ দাফনের বিষয়টি নিয়ে লালমনিরহাটের পুলিশও তদন্ত করছে। গতকাল শুক্রবার লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মৌসুমীর লাশ উদ্ধারের পর আদিতমারী থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। সেটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই ঘটনাটি সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য মিলবে।’
গত ২১ মে পোশাককর্মী মৌসুমী আক্তার গাজীপুর থেকে ট্রাকে করে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে রংপুরের তাজহাট এলাকায় এসে চালক বুঝতে পারেন মৌসুমী মারা গেছেন। এরপর তার মরদেহ রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান ট্রাকটির চালক ও হেলপার। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে খবরের ভিত্তিতে তাজহাট থানা পুলিশ মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ২৩ মে পুলিশ মৌসুমীর বাবা গোলাম মোস্তফার কাছে তার মেয়ের মরদেহ হস্তান্তর করে।
মৌসুমীর বাবা গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতকে মোবাইলে বিষয়টি জানিয়ে নিজ এলাকায় মেয়ের মরদেহ দাফনের অনুমতি চান। কিন্তু মৌসুমী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন সন্দেহে চেয়ারম্যান মরদেহ এলাকায় আনতে নিষেধ করেন। আর এলাকায় আনলে তার পরিবারের সদস্যদের এবং মরদেহবাহী গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে মেয়ের মরদেহ দাফন করতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার একজন লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে ৫ হাজার টাকায় চুক্তি করেন গোলাম মোস্তফা। ওই চালক দাফনের আশ্বাস দিয়ে গোলাম মোস্তফাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে মৌসুমীর মরদেহ তিস্তা নদীতে ফেলে দেন। দুই দিন পরে (২৪ মে রাতে) স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্দ্ধন গ্রামে তিস্তা নদী থেকে সরকারি ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। এরপর সোমবার ঈদের নামাজ শেষে আদিতমারী থানা পুলিশ অজ্ঞাত মরদেহ হিসেবে জানাজা শেষে আদিতমারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মৌসুমীকে দাফনের প্রস্তুতি নেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে খবর পেয়ে মেয়ের পরিচয় শনাক্ত করেন গোলাম মোস্তফা। এরপর লালমনিরহাটের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আদিতমারী থানা পুলিশ পাটগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তায় পাটগ্রামে নিজ গ্রামে ওই দিন বিকেলে মৌসুমীকে দাফন করে। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায় ‘ঈদ, করোনা ও একটি লাশের গল্প’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
