পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার আরও কঠোর হবে : কাদের

আপডেট : ০২ জুন ২০২০, ০৬:২২ এএম

অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার আরও কঠোর হবে বলে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সরকারের অর্থ ও খাদ্য সহায়তার কারণে করোনা সংকটকালে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। গতকাল সোমবার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের।

গণপরিবহন চালু ও ভাড়াবৃদ্ধির বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বাস্তবতার প্রয়োজনে ভাড়া সমন্বয় করেছে এবং আজ (গতকাল) থেকে শর্ত সাপেক্ষে গণপরিবহন চলছে। আমি মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি ও শর্ত মেনে গাড়ি চালানোর অনুরোধ করছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ভিজিল্যান্স টিম, মোবাইল কোর্টসহ টার্মিনাল কর্র্তৃপক্ষকে অর্ধেক আসন খালি রাখা ও বর্ধিত ৬০% ভাড়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক পরার বিষয় তদারকি করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অর্ধেক আসন খালি রাখুন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। সংক্রমণ থেকে বাঁচুন, অপরকে বাঁচান। হুড়োহুড়ি, বাড়তি যাত্রী হওয়া, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংকটে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতির যদি আরও অবনতি হয় এবং তা যদি জনস্বার্থের বিপরীতে চলে যায়, তাহলে সরকারকে বাধ্য হয়ে আবারও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আকস্মিক এ সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও আজ হিমশিম খাচ্ছে। আমরা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দিন দিন সংকট সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। গড়ে তোলা হয়েছে সুসমন্বয়। কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যন্ত চিকিৎসা নেটওয়ার্ক সমন্বয় করাসহ সচেতনতা তৈরিতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সরকার। খাদ্য সহায়তা, আর্থিক সহায়তাসহ নানা উদ্যোগের ফলে আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত মানুষ না খেয়ে মরেনি। বিশ্বব্যাপী শেখ হাসিনা সরকারের সংকট সমাধানের সাহসী ও মানবিক প্রয়াস প্রশংসিত হচ্ছে। আর বিএনপি খুঁজে পাচ্ছে সমন্বয়হীনতা। নিজেরা অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্লজ্জভাবে ব্যর্থ হয়ে দায়িত্বহীন বক্তব্য রাখছে, বিষোদগার করছে, যা প্রকারান্তরে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ও আক্রান্তদের মনোবল নষ্ট করছে।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রাম আর নির্বাচনে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বিএনপি জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়। তাই জনগণ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গণমাধ্যমে চর্বিত চর্বন করছে। দুর্যোগকালে অসহায় মানুষের পাশে না থেকে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ থেকে দূরে অবস্থান করে নিজেদের জনরোষ থেকে বাঁচাতে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। এটা তাদের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার, যা মানসিক বৈকল্য ছাড়া আর কিছুই নয়। দলের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় নেই। নিজেদের অফিসে নিজেরা আগুন দেয়। কর্মীরা নেতাকে পিটায়, যারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারে না, তারা আবার সমন্বয়ের কথা বলে?’

তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশে দুর্যোগে গণমানুষের পাশে সবার আগে আওয়ামী লীগ ছুটে যায়। এটাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকার অপচেষ্টা আর মিথ্যাচার বিএনপির ঐতিহ্য। আমি সংকটে তাদের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়েও লকডাউন শিথিল করছে এবং কোথাও কোথাও তুলে নিয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পবিত্র মক্কা-মদিনা-মসজিদুল আকসাও ধীরে ধীরে মুসল্লিদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। জীবনের পাশাপাশি জীবিকা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে জীবনের গতিপথ থেমে আসবে। নেমে আসবে স্তব্ধতা। অর্থনীতিও হয়ে পড়বে স্থবির। তাই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বেছে নিতেই হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রেক্ষাপটে আমাদের অনিবার্য প্রয়োজন সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। নিজের সুরক্ষা প্রকারান্তরে পরিবার, সমাজ ও সহকর্মীদের সুরক্ষা দেবে। তাই প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে সচেতন ও সুরক্ষিত থাকি। ঘরকে গড়ে তুলি সুরক্ষার দুর্গ। এমন সংকটে সাহসী নেতৃত্ব আমাদের সবার পাশে আছেন, তিনি দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তার প্রতি আস্থা রাখুন, ভরসা রাখুন মহান স্রষ্টার প্রতি। এ নিদানকাল আমরা কাটিয়ে উঠব। ভোরের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে দশ দিগন্ত ইনশাল্লাহ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত