দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে গণপূর্ত অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০৬:০২ এএম

নড়াইলে দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে স্থানীয় গণপূর্ত কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুকুল ও সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। তারা দুজন গত সোমবার দুপুরে ভাঙচুরসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ ত্রাস সৃষ্টি করেছেন উল্লেখ করে একইদিন রাতে গণপূর্ত কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী হাবিবুর রহমান বিশ্বাস নড়াইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে ওই দুই ছাত্রলীগ নেতা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা শুধু গণপূর্ত কর্মকর্তাদের দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন, সেখানে ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

হাবিবুর রহমানের করা জিডিতে বলা হয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুকুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে প্রবেশ করে। এ সময় তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটির সময় যেসব কাজের চুক্তি হয়েছে তার কাগজপত্র চায় এবং উত্তেজিতভাবে কথা বলে। তখন ওই দুই ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধান সহকারী হাবিবুর রহমান তার কক্ষে ডেকে আনলে তারা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে ওই দুই নেতা চেয়ার তুলে প্রধান সহকারীকে আঘাত করে। তিনি দ্রুত সরে গেলে তারা অফিস সহকারীর টেবিল-চেয়ার, অফিসের টেলিফোন সেট ও কলমদানি ভেঙে ফেলে এবং ফাইলপত্র তছনছ করে।

হাবিবুর রহমান বিশ্বাস আরও জানান, তিনি মাথা সরিয়ে না নিলে তার মৃত্যু হতে পারত। এ সময় তার একটি আঙুল কেটে যায়। এছাড়া দুই ছাত্রনেতা বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এর অন্যথা হলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।

নড়াইল গণপূর্ত কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে মামলা করা হবে।’

তবে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে আশরাফুজ্জামান মুকুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নড়াইল গণপূর্ত বিভাগ করোনায় অফিস বন্ধ হওয়ার পর চারটি কাজের গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করিয়েছে এবং এসব কাজের জন্য অফিস ২০% ঘুষ নিয়েছে। আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আমরা কোনো ভাঙচুর ও চাঁদা দাবি করিনি। এটা তাদের সাজানো নাটক। যদি কোনো ভাঙচুর ও চাঁদা দাবি করি তাহলে সিসিটিভি দেখে প্রমাণ করা হোক। না হলে আমরা মানহানির মামলা করব।’

সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াছ হোসেন গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণপূর্ত অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে সোমবার রাত ১০টার দিকে থানায় জিডি হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাত্রলীগের পদে থাকাকালে আশরাফুজ্জমান মুকুলের বিরুদ্ধে আরটিভির সাংবাদিক মোস্তফা কামালকে মারধর ও ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম এবং শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ সড়কে এক যুবককে অপহরণসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে মুকুলের বিরুদ্ধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত