ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মৃত রোগীর স্বজনের মামলা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ০২:৩৮ এএম

ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে মৃত এক রোগীর স্বজন অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গতকাল বুধবার রাতে গুলশান থানায় মামলাটি করেন মৃত ভেরন অ্যান্থনি পলের জামাতা রোনাল্ড নিকি গোমেজ। এতে হাসপাতালের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, দায়িত্বরত ডাক্তার-নার্স ও সেফটি সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে।

গত ২৭ মে রাতে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালটির প্রাঙ্গণে করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান এক নারীসহ পাঁচজন। তারা হলেনÑ ভেরন অ্যান্থনি (৭৪), মো. মাহবুব (৫০), মো. মনির হোসেন (৭৫), খোদেজা বেগম (৭০) ও রিয়াজ উল আলম (৪৫)। তাদের মধ্যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

 গুলশান থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ (বুধবার) রাত ৯টার দিকে চেয়ারম্যান, সিইও, এমডি, চিকিৎসক ও নার্সসহ ৬ পদের নাম উল্লেখ করে পুরো কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়।’

মামলার বাদী রোনাল্ড নিকি গোমেজ বলেন, ঘটনার দিন তিনি চাক্ষুস দেখেছেন ইউনাইটেডের কর্তাদের অবহেলা। দুবার করোনা টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও তার স্বজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয় আইসোলেশন ইউনিটে। চিকিৎসক ও প্রশাসকদের স্বেচ্ছাচারিতায় আরও কয়জন নন-কভিড রোগীকে সেখানে রাখা হয়েছিল। অথচ তাদের করোনা নেগেটিভ ছিল। তাই এই ঘটনা ও ৫ জন নিহতের পেছনে সম্পূর্ণ দায় ইউনাইটেড হাসপাতালের। এই কয়েক দিন পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে জানান রোনাল্ড।

মামলার এজাহারে অ্যান্থনি পলকে হাসপাতালে ভর্তির পর যা যা প্রত্যক্ষ করেছেন তার বিবরণ দিয়েছেন রোনাল্ড। এছাড়া আইসোলেশন ইউনিটের এসিতে লাগা ছোট্ট আগুন দায়িত্বরতদের অবহেলায় কীভাবে বড় হয়ে ৫ জনের জীবন কেড়ে নিল তারও বর্ণনা করেছেন তিনি।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর তারা লাশ চট্টগ্রামে নিতে হবে বলে দেড় দিন ইউনাইটেডের মর্গ ব্যবহার করেন। এজন্য ন্যূনতম মানবিকতা না দেখিয়ে ইউনাইটেডের কর্মকর্তারা তাদের কাছে বিল দাবি করেন। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকার ভাউচারও ধরিয়ে দেন।

গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতালটিতে অগ্নিকাণ্ডে রোগী পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় নিহতের স্বজনের পক্ষ থেকে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। এতে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকসহ ৮টি পদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত