র্যাব সদর দপ্তরের কর্মকর্তা নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ভ্রƒণ হত্যার অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী ইসরাত হাসান। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেছেন তিনি। মামলায় শ্বশুর শফিউল্লাহ তালুকদার ও শাশুড়ি খালেদা সুলতানাকেও আসামি করেছেন ইসরাত। তার অভিযোগ, দ্বিতীয়বারের মতো গর্ভে কন্যা সন্তান আসায় তার ওপর বেড়ে যায় নির্যাতনের মাত্রা। ইসরাতের স্বামী সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাজমুস সাকিব র্যাব সদর দপ্তরে কর্মরত।
ইসরাত হাসানের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের মার্চে বিয়ে হয় সাকিব-ইসরাতের। বিয়ের পর থেকেই বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময় নানা অঙ্কের টাকা এনে দেওয়ার জন্য শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বাড়ি দোতলা করার জন্য বারো লাখ টাকা দাবি করে না পেয়ে ইসরাতের ওপর বেড়ে যায় নির্যাতন। টাকা না পাওয়ায় তালাকের ভয় দেখিয়ে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় ২০১৯ সালের জুলাইতে। এরপর নানাভাবে চলতে থাকে নির্যাতন। আবারও অন্তঃসত্ত্বা হন ইসরাত। অনাগত সন্তান মেয়ে হবে এই কারণে শ^শুরবাড়ি থেকে আবারও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন নাজমুস সাকিব। মে মাসের শুরু থেকে নির্যাতনের কারণে দফায় দফায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ইসরাতকে। আসতে থাকে নানা হুমকি। অবশেষ আইনজীবীর মাধ্যমে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেছেন তিনি।
রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইসরাত নারী নির্যাতন ও ভ্রƒণ হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করা হবে।’
অন্যদিকে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত করে পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এএসপি নাজমুস সাকিবের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করেন। তবে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
এ ব্যাপারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলছে। নাজমুস সাকিব তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চারটি জিডি করেছে। আর ভ্রƒণ হত্যার যে অভিযোগ, সেটা তার স্ত্রী স্বেচ্ছায় করেছে। স্ত্রী ইসরাত এসএসপি সাজমুস সাকিবকে মারধর করেছে। সে কারণে তিনি কয়েকটি সেলাইও দিয়েছেন।’
এই র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘নামজুস সাকিব যেহেতু র্যাবে কর্মরত, তাই আমরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। পাশাপাশি যেহেতু থানায় মামলা হয়েছে, পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করবে।’
