ইমামকে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন ইউপি চেয়ারম্যানের

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ০৩:৪৩ এএম

বরিশালে শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। গত বুধবার মেহেন্দিগঞ্জের দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইমাম মো. শহীদুল ইমলামকে আটকে রেখে নির্যাতন ও গলায় জুতার মালা পরান চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা রাঢ়ী ও অন্য সদস্যরা। ফেইসবুকে ওই নির্যাতনের দৃশ্যের একটি ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার নির্যাতনের শিকার শহীদুল ইমলাম বাদী হয়ে মামলা করার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইমাম শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠকে বসেন চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা রাঢ়ী ও অন্য সদস্যরা। সালিশ বৈঠকে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে শহীদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করা হয়। একই সঙ্গে তার গলায় জুতার মালা পরানো হয়। পরে ওই দৃশ্যের ছবি তুলে তা ফেইসবুকে দেন সালিশকারীরা। ছবিটি এলাকার বিভিন্ন মানুষের ফেইসবুক আইডিতে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ শাজেদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন ছাত্রের উপবৃত্তির টাকা নিয়ে যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে জনপ্রতিনিধি তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা একটা ঘৃণ্য এবং জঘন্য ঘটনা। যার মাধ্যমে ওই শিক্ষক ও ইমামের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখেছে। আমরা মনে করি, যদি ওই শিক্ষক বড় ধরনের অপরাধ করে থাকেন, তবে প্রশাসন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু সেজন্য প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন মধ্যযুগীয় কায়দা। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। একই সঙ্গে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইমাম মো. শহীদুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে আমাকে দিনভর পরিষদে আটকে রেখে মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’

মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি মো. আবিদুর রহমান গতকাল দুপুরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন মাদ্রাসাশিক্ষককে নির্যাতন এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় মাদ্রাসাশিক্ষক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় বজলু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পীযূষ চন্দ্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন শিক্ষককে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতনের ঘটনা অবশ্যই অমানবিক। আমরা ওই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ ব্যাপারে অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে এবং একজন আসামি গ্রেপ্তারও হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত