স্ক্যাবো-৬ ওষুধ ৫০ টাকা পাতা বিক্রি হতো। এখন ১০ ট্যাবলেটের এই পাতা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। ২০ টাকা বাজার মূল্যের সিভিট ৫০ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু এসব নয়, করোনা সংক্রমণের পর নানা টোটকা পরামর্শে চট্টগ্রামে ওষুধের দামে রীতিমতো নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। তিন থেকে চারগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বর, শ্বাসকষ্টের ওষুধ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং জীবাণুনাশক স্যাভলন-ডেটল।
গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে চড়া দামের সত্যতা পেয়েছে র্যাব-৭। র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ মজুদ গড়ে একশ্রেণির সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এর মাধ্যমে তারা বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। যদিও ওষুধ প্রশাসনের দাবি, বাজারে ওষুধ সরবরাহের কোনো সংকট নেই। দাম বাড়ার প্রশ্নই আসে না।
গতকাল শনিবার নগরীর হাজারি লেইন, আসকারদীঘির পাড়, পাথরঘাটা, জামালখান, চমেক হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জ্বর-সর্দিজনিত রোগের ওষুধ নিতে এলেও অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সরবরাহ নেই অজুহাতে। বিশেষ করে প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন ও ভিটামিন সি জাতীয় ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখে করোনা ওষুধ কিনতে ভিড় করছেন। বাকলিয়া থেকে আসা মো. তানভীর বলেন, ‘করোনার ওষুধ হিসেবে ফেইসবুকে অনেক চিকিৎসক ইকারমেকটিন, রিকোনিল, স্ক্যাবো, জিঙ্ক খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই এগুলো কিনতে এসেছি।’
হাজারি লেইনের নিশা ফার্মেসির লিটন মিত্র বলেন, ‘সিভিট, স্যাভলন, স্ক্যাবো, ইভেরা ১২, জিঙ্ক, ভিটামিনের চাহিদা প্রচুর। ক্রেতারা প্রয়োজনের কয়েক গুণ কিনছেন। ফলে এখন আমরা প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দিচ্ছি।’
গত বৃহস্পতিবারের অভিযান বিষয়ে র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, তারা আরসি ড্রাগ হাউজে ৭৫০ টাকার আইভেরা ৬ মিলিগ্রাম ছয়টির প্যাকেট ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির সত্যতা পান। গাউছিয়া ফার্মেসি ৫০ টাকা স্ক্যাবো-৬-এর পাতা ৫০০, মাসুদা মেডিসিন শপ ৩৬০ টাকার রিকোনিল ৬০০ টাকায় বিক্রি করছে। এসব ফার্মেসিতে সিভিট, মোনাস ১০ মিলিগ্রাম, অ্যাজিথ্রোসিন, জিঙ্ক জাতীয় ওষুধও কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ মিলেছে। পরে অবৈধভাবে ওষুধ মজুদারির দায়ে তিন ফার্মেসি মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়। নগরীতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
শুধু ওষুধ নয়, কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে জীবাণুনাশক, মাস্ক, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ফার্মেসিতে না থাকলেও নিউ মার্কেট, কোতোয়ালি, টেরিবাজার, হাজারি লেইনে ভাসমান হকাররা দেদার এসব বিক্রি করছেন।
কভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাচিপ গঠিত কমিটির চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ডা. মিনহাজুর রহমান জানান, স্ক্যাবো, ইভেরা মানুষ আশা নিয়ে কিনলেও এগুলোর কার্যকারিতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত নয়। ফলে বর্তমান সংকটে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির (বিসিডিএস) পরিচালক ও চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহসভাপতি আশীষ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘শুরুতে সংকট থাকলেও এখন বাজারে যথেষ্ট ওষুধের সরবরাহ রয়েছে। সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। ক্রেতাদেরও উচিত ওষুধের সঙ্গে রসিদ চেয়ে নেওয়া। তাহলে দামের লাগাম টানা সহজ হবে।’
এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘আমাদের ওষুধের কোনো সংকট নেই। ইভেরা ও স্ক্যাবো করোনার ওষুধ নয়। মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। কারও থেকে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ পেলে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।’
