গুগল ও অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই ইতিমধ্যে প্রযুক্তিপ্রিয় তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। পেশাগতভাবে খুবই ঈর্ষণীয় জায়গায় অবস্থান করলেও খুবই সাধারণ জীবনযাপন করেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বর্তমানে করোনার আক্রমণে সারা বিশ্ব তোলপাড়। এরই মধ্যে ২০২০ সালে গ্রাজুয়েট হয়ে পেশাদার জীবনে পা রাখতে চলেছেন বহুসংখ্যক শিক্ষার্থী।
তাদের উদ্দেশে ইউটিউব ভার্চুয়াল গ্রাজুয়েশন ফেয়ারওয়েলে এক বিশেষ বার্তা দিলেন সুন্দর পিচাই। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করলেন সাফল্যের সূত্রগুলো- মানসিকতার দিক থেকে সব সময়ে উদার থাকতে হবে, ইমপেশেন্ট হওয়াও গুনের এবং কোনও পরিস্থিতিতেই যেন তারা আশা না ছাড়েন।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্যে ভারত থেকে আমেরিকা আসার সময়ে কোন কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে বিষয়গুলোও উঠে আসে গুগল সিইওর বক্তব্যে।
সুন্দর পিচাই বলেন, আমি যাতে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতে পারি তা নিশ্চিত করতে প্রায় সারা বছরের বেতন দিয়ে আমার বাবা প্লেনের টিকিট কেটে দিয়েছিলেন। সেই প্রথম আমি প্লেনে উঠি।
তিনি বলেন, তখন আমেরিকা খুব এক্সপেনসিভ ছিল। সেই সময়ে বাড়িতে ফোন করতে হলে মিনিটে ২ ডলার খরচ হয়ে যেত। একটা ব্যাকপাক কিনতে যা খরচ পড়ত তা ভারতে আমার বাবার এক মাসের বেতন ছিল।’
গুগল প্রধান আরও বলেন, আমরা যখন বড় হচ্ছিলাম আমাদের কাছে টেকনোলজি তেমন কিছু ছিলই না। দশ বছর বয়সে গিয়ে প্রথম টেলিফোন দেখি। আমেরিকায় আসার আগে নিয়মিত কম্পিউটারের অ্যাকসেসও ছিল না। আর টেলিভিশন! অবশেষে সেটি যখন আমাদের বাড়ি আসে, তখন টিভিতে একটা মাত্র চ্যানেলই দেখা যেত।’
বুধবার ৪৮ বছরে পা দিতে যাচ্ছেন সুন্দর পিচাই। ভারতের চেন্নাইয়ে তিনি বেড়ে উঠেন। মেটিরিয়াল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়।
২০০৪ সালে গুগলে যোগ দেন ম্যানেজমেন্ট এগজিকিউটিভ হিসেবে। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির প্রডাক্ট চিফ এবং সিইও হন। ২০১৯ সাল থেকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে অ্যালফাবেটের সিইও হিসেবেও নিয়োগ পান।
গুগলের এই ভিডিও প্রোগ্রামে ভবিষ্যতের পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আরও বিশেষ বার্তা দেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার স্ত্রী মিশেল ওবামা, পাকিস্তানি নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই, সঙ্গীত তারকা লেডি গাগা, বিয়ন্সেসহ আরও অনেকে।
