দুর্বল স্বাস্থ্য খাতে গতানুগতিক বরাদ্দ

আপডেট : ১২ জুন ২০২০, ০৩:০৯ এএম

দেশে করোনা মহামারীর সময় প্রস্তাবিত আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বিশেষ করে করোনা চিকিৎসা ও পরীক্ষাসহ করোনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার যেসব খাতে ইতিমধ্যেই নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম ধরা পড়েছে, সেসব খাতে সংস্কারে কোনো কর্মসূচি নেই। প্রতিবারের মতো এবারও টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বেড়েছে। তবে তা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশের নিচে রয়েছে। এমনকি এ বৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের বাজেটের আগের বছরের তুলনায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা কম।

বিশেষজ্ঞরা এবারের স্বাস্থ্য খাতের বাজেটকে গতানুগতিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, অন্যান্য বছরের মতোই টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বেড়েছে। কিন্তু করোনার মহামারী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজেটে কোনো পরিকল্পনা নেই। বিশেষ করে যে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা করোনার মোকাবিলায় ঠিক কোথায় ও কীভাবে ব্যয় করা হবে, সেটা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য খাতের জন্য যে বরাদ্দ, সেটাও ওই মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা উচিত ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য খাতের যেসব দুর্বল দিক ও অনিয়ম উঠে এসেছে, এ বাজেটে সেসব সমাধানে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিচালনায় দক্ষ জনশক্তির কোনো দিকনির্দেশনা নেই। বিশেষ করে ব্যয় বাজেটে প্রচুর দুর্বলতা রয়ে গেছে।

দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে এ বরাদ্দ অপ্রতুল বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জিডিপির বিচারে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৫২টি দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া হয় বাংলাদেশে। এ খাতে মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ১ হাজার ৫৩৭ টাকা। এ কারণে মানুষকে নিজের পকেট থেকে প্রায় ৬৬ শতাংশের মতো খরচ করতে হয়। অর্থাৎ স্বাস্থ্যের পেছনে ১০০ টাকা খরচ হলে সরকারি সহায়তা পাওয়া যায় ৩৪ টাকা এবং বাকি ৬৬ টাকা রোগী নিজে বহন করে। এ টাকা খরচ করা অনেক মানুষের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তারা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দ বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর ব্যবহার করার ওপরও জোর দিয়েছেন।

অবশ্য করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবারের বাজেটে কিছু ভালো দিক রয়েছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশে করোনা মোকাবিলায় যেকোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও বিজ্ঞানপ্রযুক্তি খাতের গবেষণার উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার ‘সমন্বিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল’ গঠন করার প্রস্তাব ইতিবাচক। এছাড়া নতুন করে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আরও ১ হাজার ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ ও বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ রোগের চিকিৎসায় আলাদা ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের দেশে যত বাজেটই হয়েছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্য বাজেটটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে কম। গত বছর ছিল মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। মোট বরাদ্দের ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সুতরাং এটা সেরকমই একটা গতানুগতিক বাজেট হয়েছে। তারপরও যে টাকায় বরাদ্দ করা হোক না কেন, সেটা জুডিশিয়ালি স্পেন্ট বা অগ্রাধিকারভিত্তিতে ব্যয় এবং জুডিশিয়ালি প্ল্যানও করা হয় না। এছাড়া অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত, কেনাকাটা এর মধ্যে প্রচুর দুর্নীতি ও অপচয় হয়। আমরা যদি জুডিশিয়ালি ব্যবহার করতে পারি এবং দুর্নীতি ও অপচয় কমাতে পারি, তাহলে যে বরাদ্দেই সরকার দিক না কেন, এটার লাভ জনগণ পাবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।

একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কভিড নিয়ন্ত্রণে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ ও এডিবির আড়াই হাজার কোটি টাকা, এ সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ছাড়া বাকি যে বাজেট, সেটা গতানুগতিক। আমাদের যেহেতু স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোই যেখানে দুর্বল, সেখানে বাজেটেও দুর্বলতা থাকবে। যেমন যে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ, সেটা কিন্তু ভালো বিষয় নয়। কারণ ঠিক সেটা কোথায় লাগবে, সেটা চিহ্নিত করে সেখানে যদি দিতে পারতাম, তাহলে সেটাই হতো সবচেয়ে ভালো। তাই থোক বরাদ্দ একদিকে যেমন ভালো, আরেকদিকে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতার ফল।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে (পরিচালন খাতে ১২ হাজার ৮৩০ কোটি এবং উন্নয়ন হাতে ১০ হাজার ৫৪ কোটিসহ) ২২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগে (পরিচালন খাতে ৩ হাজার ৯১৭ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ২ হাজার ৪৪৬ কোটিসহ) ৬ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের চেয়ে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা বেশি। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ২৫ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। যদিও পুরো অর্থ ব্যয় করতে না পারায় পরে তা ২ হাজার ৪১ কোটি টাকা কমে ২৩ হাজার ৬৯২ কোটি টাকার সংশোধিত বাজেটে রূপ নেয়। তবে এবার গত বছরের চেয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মতো বাড়লেও এ বৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের আগের বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা।

এবার স্বাস্থ্য খাতে এ বরাদ্দ মোট বাজেটের ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির এক শতাংশেরও নিচে। চলতি ২০১৯-২০ সালের বাজেটে এ বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থমূল্যে যার পরিমাণ ২৫ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। পুরো বাজেটের আকারের তুলনায় তা ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সে হিসাবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত বছরের তুলনায় শতাংশ হিসাবে কমেছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটের মতোই এবারও পরিবহন ও যোগাযোগ খাত এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে স্বাস্থ্য খাতের তুলনায় বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছর পরিবহন ও যোগাযোগ খাত পেয়েছিল মোট বাজেটের ২৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাত ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এবারও এ দুই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৭ শতাংশ।

অবশ্য অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সংক্রান্ত কার্যক্রম ১৩টি মন্ত্রণালয় বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ যা জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মোট বাজেট বরাদ্দের ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা একেবারেই গতানুগতিক একটা বাজেট। বিগত এক যুগ ধরে এ গতানুগতিক বাজেটই আসছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে যে বাজেটটা আসে, সেটা ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার জন্য পুরোপুরি তারা বাস্তবায়নও করতে পারে না, টাকাও খরচ করতে পারে না। তার প্রমাণ হলো চলতি অর্থবছরের বাজেট। মোট বরাদ্দের মধ্যে ২৩ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে। বাকি ২ হাজার ৪১ কোটি টাকা ফেরত গেছে। ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার জন্য এ টাকা খরচ করতে পারেনি।

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এখানে লক্ষণীয় বিষয় যে, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য খাতে যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হেলথ পলিসি ইন অল পলিসি’র সঙ্গে যায় না। এ বরাদ্দ কোথায় খরচ হবে সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা উচিত। যে মন্ত্রণালয়ই বরাদ্দ পাক না কেন, সেটা কীভাবে খরচ হবে, সেটা যেন সঠিকভাবে মনিটর ও সুপারভাইজ করা হয়। সে দায়িত্ব থাকবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এখন সেটা হচ্ছে না। যেমন নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সিটি করপোরেশন, অর্থাৎ স্থানীয় সরকারের অধীনে। আবার উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে। সমন্বয় নেই।

করোনা মোকাবিলায় থোক বরাদ্দ ব্যয়ের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এ অর্থ নগর ও গ্রামীণ সম্পূর্ণ দুভাগে ভাগ করতে হবে। কারণ নগরে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু গ্রামের লোক স্বাস্থ্যসেবা পায় না। গ্রামের লোকজন স্বাস্থ্যসেবা পেলে তারা শহরে আসবে না। এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রবিন্দু করতে হবে। এখন এগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। এগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। এ থোক বরাদ্দের একটা বিরাট অংশ যাবে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে। কিন্তু এখান থেকে জাতীয় হাসপাতাল এক পয়সাও বরাদ্দ পাবে না। এ বাজেট সময় উপযোগী হয়নি। কিন্তু যে থোক বরাদ্দ দিচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ কভিড-১৯-এর জন্য ব্যয় হোক। এ অর্থ ব্যয় করতে হবে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোকে করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজেট চাওয়ার দক্ষতা দরকার। আপনার কী দরকার, কোথায় কীভাবে কাজে লাগাবেন, সেটা যদি ঠিক না করেন, তাহলে তা বাজেট চাওয়ার শক্তি পাবেন না। কতটুকু আমার দরকার, স্বাস্থ্য খাতে জনশক্তির সংকট থাকবে কেন, পোস্টগুলোতে নিয়োগ দিতে পারব না কেন, আরও বেশি পোস্ট তৈরি করতে পারব না কেন, এগুলো যদি ঠিক না হয়, তাহলে আপনার বাজেট চাওয়ার সুযোগ নেই। এই চাইতে না পারার কারণেই এখন থোক হিসেবে বরাদ্দ রেখেছে। যদি ভবিষ্যতে কিছু লাগে, সেজন্য এ বরাদ্দ। কিন্তু থোক হিসেবে যেটা রেখে দিল, সেটা অস্থায়ী সমাধান। স্থায়ী সমাধান হলো, স্বাস্থ্য বিভাগের যে ১৮টি খাত আছে, সেখানে আসলে আর কতটুকুর দরকার, সেটা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এসব করে যদি সঠিকভাবে বাজেট চাওয়া হয়, তাহলে সরকার বাজেট দেবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাত পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলেই আমরা প্রয়োজনীয় বাজেট দাবি করতে পারছি না। যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, সেটাও অপ্রতুল।

বাজেটের কিছু ভালো দিক আছে উল্লেখ করে এ বিশ্লেষক বলেন, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও বিজ্ঞানপ্রযুক্তি খাতের গবেষণার উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ গবেষণা তহবিল দক্ষ ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞ গবেষক, পুষ্টিবিজ্ঞানী, জনস্বাস্থ্য ও সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ এবং সুশীল সমাজ ও অন্যান্য উপযুক্ত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে। এটা একটা ভালো জিনিস। এছাড়া যে ১০ হাজার কোটি টাকা রেখে দেওয়া হয়েছে থোক বরাদ্দ হিসেবে সেটাও ভালো। তবে এখানে উদ্বেগের বিষয় যেটা, থোক বরাদ্দ অপচয় হয়। কভিড নিয়ন্ত্রণের জন্য এটা অনেক টাকা। এটা যদি সুষ্ঠুভাবে খরচ করা হয়, সামনের দিনগুলোয় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ক্যানসার হাসপাতাল, ডায়ালাইসিস সেন্টার, নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের প্রস্তাব, এসব ভালো সিদ্ধান্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত