চট্টগ্রামে কাঁচাবাজার চড়া

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ০৪:৩১ এএম

করোনার প্রাদুর্ভাবে আর আর্থিক সংকটের এ সময়ে কাঁচাবাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে মাছ-সবজির দাম। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের আশপাশ উপজেলা থেকে সবজি না আসায় দামে তেজিভাব। অন্যদিকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বাজারে সব ধরনের মাছের দামও বাড়তি। ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে বাড়িয়ে নিচ্ছে দাম। বিক্রেতাদের দাবি, প্রতিকূল আবহাওয়া, পণ্যের সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি সবকিছুর পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধিতে দাম বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার নগরীর বক্সিরহাট, ফিরিঙ্গীবাজার, বৌবাজার, সাবএরিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৪০, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫-৩০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা অথচ গত সপ্তাহে ছিল ৫০। গত সপ্তাহে ২২-২৫ টাকা দামে বিক্রি হওয়া আলু এখন ৩০ টাকা। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। ঢেঁড়স কেজি ৩৫, পটোল ৪০, কাঁকরোল ৫০, লাউ ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া তিতকরলা কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। অন্যদিকে বরবটির দাম ১০ টাকা বেড়ে কেজি ৫০ টাকা, টমেটো ৫ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বক্সিরহাট বাজারের সবজি বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলার অনেক ক্ষেতে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য বাজারে সবজি সরবরাহ কমে গেছে, আড়তদাররা দাম বাড়তি নিয়েছে। তাই খুচরাতে আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া এখন ট্রাক, ভ্যান কম এবং কুলিও পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে, সমুদ্রে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায়; বাজারে পুকুর ও নদীর মাছ থাকলেও সামুদ্রিক মাছের উপস্থিতি কম। গতকাল ৪৫০-৬০০ গ্রামের ইলিশ মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়। মিয়ানমারের রুই বিক্রি হয়েছে ২৮০ টাকা, কাতলা ২২০, সরপুঁটি ৪০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে এসব মাছের দাম কেজিতে ৪০-৬০ টাকা কম ছিল বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এছাড়া দুই কেজির চেয়ে বড় পাঙ্গাশ ১২০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হলেও এক কেজি ওজনের পাঙ্গাশের দাম ছিল ১৩০ টাকা। তেলাপিয়ার কেজি ১৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০-১৩০ টাকা। শিং ৩৫০-৫৫০ টাকা, পাবদা ৪০০, কোরাল (মাঝারি) ৪৫০, ছোট পোপা মাছ ১৮০, বড় পোপা ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। রূপচাঁদা মাছের কেজি ৭০০ ও চিংড়ি ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০০ ও ৫০০ টাকা।

ফিশারিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী প্রকাশ দাশ বলেন, মাছের দাম এখন চড়া। বিশেষ করে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় সামুদ্রিক মাছের সংকট এখন। তাই অন্যান্য সব মাছের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে মাছ পরিবহনের খরচও বেড়েছে। তাই দক্ষিণাঞ্চল থেকে চাষের মাছও কম আসছে। এর প্রভাবও পড়েছে বাজারে।

এছাড়া ফার্মের ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৩০-১৪০ টাকা, খাসির মাংস কেজি ৯০০-৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে মুরগির দাম না বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে খাসির মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০০ টাকা।

ফিশারিঘাট মাছ বাজারে ক্রেতা জসীম উদ্দিন বলেন, করোনার এ সময়ে আর্থিক টানাপড়েনে আছি। অথচ সবকিছু সরবরাহ নেই অজুহাতে দাম বাড়িয়েছে। সব মাছ কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০-১০০ টাকা। অল্প টাকায় কিছুই পাচ্ছি না।

ফিরিঙ্গীবাজারে মো. রবিন নামে মোটরপার্টস দোকানের এক কর্মচারী বলেন, দুই মাস বেতন নেই অথচ বাজারে সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা, মাছ-মাংসের দামও বেশি। সরবরাহ নেই বললেও এত পণ্য কোথা থেকে বাজারে আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত