কাদেরের বিবৃতি

ব্যর্থতা ঢাকতে বাক্যালাপে বীরত্ব দেখাচ্ছেন ফখরুলরা

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ০৫:৫৬ এএম

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে বলেছেন, কর্মভীরু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বাক্যালাপে বীরত্ব প্রদর্শন করছেন। গতকাল মঙ্গলবার দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাভাইরাসের আগ্রাসী তাণ্ডবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও প্রতিদিনের যাপিত জীবন পতিত হয়েছে এক অবর্ণনীয় সংকটে। জীবনের পাশাপাশি জীবিকা এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। তিনি বলেন, করোনার ফলে সৃষ্ট সংকটময় এই সময়ে সাংবাদিক বন্ধুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে চলেছেন। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সংবাদকর্মীরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অগ্রগণ্য। অধিকাংশ গণমাধ্যমের কর্মীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল এইসব সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণমাধ্যম সত্য প্রচারে শঙ্কিত। আমরা বলতে চাই, গণমাধ্যম হলো চলমান সমাজের দর্পণ। তারা সত্য প্রচারে নির্ভীক। বরং বিএনপির সৃষ্ট গুজব প্রচারে অনীহ।’ তিনি বলেন, ‘দেশবাসী লক্ষ করেছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন আন্দোলনে সরকারবিরোধী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে বিএনপি কীভাবে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং গুজবভিত্তিক রাজনীতির বৈধতা দিয়েছে। সেই কারণে সংকটময় এই সময়ে জনগণের পাশে না দাঁড়ানো বিএনপির মিডিয়াবাজির রাজনীতিতেও ভাটা পড়ায় তারা গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কর্মভীরু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বাক্যালাপে বীরত্ব প্রদর্শন করছেন।’ বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতার পর পর সদ্য স্বাধীন দেশে দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতা শুরু হয়। দেশের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ না থেকে বিদেশের টাকায় রাতারাতি সংবাদপত্র প্রকাশ করে জাতীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে জাতিকে রক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে সাম্যভিত্তিক সমাজ নির্মাণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘গণতন্ত্র’ প্রত্যয়টির চেয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি কায়েম না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাকশাল ছিল সেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজেই বাকশালের কার্যকরী সদস্য ছিলেন। বাকশাল কোনো একদলীয় ব্যবস্থা ছিল না। এটি ছিল সব মত-শ্রেণি-পেশার সমন্বয়ে একটি জাতীয় দল। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৪টি পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও অন্যান্য মিলে ১২৬টির মতো সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কথায় কথায় বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে যদি গণতন্ত্র না-ই থাকে তাহলে বিএনপির নেতারা কীভাবে সরকারের বিরুদ্ধে এত মিথ্যাচার করার সুযোগ পান?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত