এক দিনে ৪ হাজার শনাক্ত মোট রোগী লাখ ছুঁই ছুঁই

আপডেট : ১৮ জুন ২০২০, ০৫:৩৪ এএম

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছেই। এক দিনে রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল বুধবার দেশে করোনা শনাক্তের ১০২তম দিনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এ যাবৎ সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪৩ জন রোগী। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট শনাক্তকৃত করোনা রোগীর সংখ্যা লাখ ছুঁই ছুঁই এবং সর্বমোট মৃত্যু ১৩ শতাধিক। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এ যাবৎ সর্বোচ্চ সাড়ে ১৭ হাজার নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ২৩ শতাংশ করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। রোগী শনাক্তের এই হার এ যাবৎ তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং গত ১৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১১ মে ৬৫তম দিনে প্রথমবার ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর গত ২৮ মে ৮২তম দিনে প্রথমবার ২ হাজার ছাড়ায়, গত ৯ জুন ৯৪তম দিনে প্রথমবার ৩ হাজার ছাড়ায় এবং সর্বশেষ গতকাল ১৭ জুন ১০২তম দিনে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত প্রথমবার ৪ হাজার ছাড়াল। করোনায় আক্রান্ত বিশ্বের প্রায় ২১৫টি দেশের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৮-৯টি দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত মঙ্গলবারও মাত্র ৮টি দেশে ৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এবার বাংলাদেশও তাদের সঙ্গে যুক্ত হলো।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ৫৯টি পরীক্ষাগারে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৮ হাজার ৯২২টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫২৭টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৪ হাজার ৮ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন রোগী শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যে করোনায় মারা গেছেন আরও ৪৩ জন এবং বাসা ও হাসপাতাল মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯২৫ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৫ লাখ ৫১ হাজার ২৪৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৮ হাজার ৪৮৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন মোট ১ হাজার ৩০৫ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ১৮৯ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৩৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

সর্বশেষ মৃতদের বিষয়ে বলা হয়, তাদের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন ও মহিলা ১৫ জন। ঢাকা বিভাগে ২১ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, রাজশাহীতে ৪ জন, খুলনায় ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, সিলেটে ১ জন ও রংপুর বিভাগে ১ জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৭ জন, বাড়িতে ১৫ জন ও মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে ১ জনকে। তাদের মধ্যে ০-১০ বছরের শিশু ১ জন, ১১-২০ বছরের ১ জন, ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ৪ জন, ৪১-৫০ বছরের ৪ জন, ৫১-৬০ বছরের ৯ জন, ৬১-৭০ বছরের ১২ জন, ৭১-৮০ বছরের ৯ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ২ জন।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৭১৮ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১০ হাজার ৭৫২ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ৩ হাজার ৪১ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬২ হাজার ৪৯০ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৯৯০ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত