একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে পূর্বের কমিশন পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে। এতে করে পুঁজিবাজারে লেনদেনে স্থবিরতা নেমে আসে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে লেনদেনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে অচিরেই ‘ফ্লোর প্রাইস’ ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হবে বলে আশা করছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, বাজারের বিশেষ অবস্থার কারণে গত ১৯ মার্চ পূর্বের কমিশনকে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করতে হয়েছিল। তবে বাজারের স্থবিরতার জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার এটিকে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে এটি তুলে দেওয়ার কথা বলছেন। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।
গতকাল বুধবার বাজেটোত্তর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া এবং সিএসইর কিছু দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন স্টক এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন-উর রশীদ।
এসইসির কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, নতুন কমিশন ২০ মে দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে সময় বিশেষ পরিস্থিতির কারণে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন বন্ধ ছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সম্পদের ওপর বিনিয়োগকারীদের যে অধিকার তা প্রতিষ্ঠায় স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নিয়েছি। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে এসইসি। বাজারের বিদ্যমান সংকটগুলো চিহ্নিত করতে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
ড. মিজান আরও বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ায় অবাধ ও উন্মুক্তভাবে বিনিয়োগকারীরা লেনদেনের সুযোগ পাবেন বলে আমরা আশা করছি। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন থাকা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ট্রেডিং প্লাটফর্মের দক্ষতা বিনির্মাণসহ পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করতে বর্তমান কমিশন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহারে ব্যবধান বাড়ানো, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর রেয়াত সুবিধা প্রথম তিন বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মূলধনী মুনাফার ওপর করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে সিএসই। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ তিন বছর বিনিয়োগ রাখার শর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটি।
প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, এ বাজেট জনজীবন সুরক্ষা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের চাকাকে সচল করবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরে সরকারের যে রূপকল্প রয়েছে, তাতে ব্যাপকভাবে বেসরকারি পুঁজি সঞ্চালন প্রয়োজন। শুধু ব্যাংকনির্ভর বেসরকারি বিনিয়োগ ও পুঁজি সঞ্চালন একদিকে ব্যাংক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে, অন্যদিকে পুঁজিবাজারের বিকাশেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। পুঁজিবাজারকে টেকসই উন্নয়ন ও গুণগত সম্প্রসারণের স্বার্থে ব্যাপক কৌশল নেওয়া দরকার। এজন্য বাজেট বিষয়ে সিএসইর প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি।
আসিফ ইব্রাহিম বলেন, পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান ভালো উদ্যোগ। তবে এটা শর্তহীন করা হলে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়বে। বাজেটে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত হতে অনেক কোম্পানি নিরুৎসাহিত হতে পারে। তাই তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধান বাড়ানোর জন্য করপোরেট করহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার অনুরোধ করছি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন-উর রশীদ বলেন, বাজেটে দ্বৈত কর প্রত্যাহারের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এর পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য এবং উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রত্যাহার করার জন্য এসইসির মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবে সিএসই।
