চিকিৎসক রকিব হত্যার আরেক আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ০৬:১৩ এএম

খুলনায় চিকিৎসক আবদুর রকিব খান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর খালিশপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ নিয়ে মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা চার আসামিসহ মোট ছয়জন গ্রেপ্তার হলো।

খুলনা সদর থানার ওসি আসলাম বাহার বুলবুল গতকাল বিকালে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামি কুদ্দুসকে আজ পুলিশ হেফাজতে রেখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাকে আগামীকাল আদালতে হাজির করা হবে।’ এর আগে ১৭ জুন রাতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ডা. রকিব হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি জমির শেখ এবং অপর তিন আসামি আবুল আলী, গোলাম মোস্তফা ও খাদিজাকে গাজীপুরের টঙ্গী ও খুলনার রূপসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ১৬ জুন রাতে আবদুর রহিম নামে আরও একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে রকিব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার প্রধান আসামি জমির শেখ গত শুক্রবার রকিব হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে খাদিজা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া আসামি আবদুল আলী, গোলাম মোস্তফা ও আব্দুর রহিমের দুই দিনের রিমান্ড চলছে।

চিকিৎসক রকিব খুলনা নগরীর রাইসা ক্লিনিকের পরিচালক ছাড়াও বাগেরহাট মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট টেনিং স্কুলের (ম্যাটস) অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি বিসিএস স্বাস্থ্য প্রশাসনে পরিচালক পদমর্যাদায় চাকরি করতেন। নগরীর মোহাম্মদ নগরের পল্লবী সড়কের বাসিন্দা আবুল আলীর স্ত্রী শিউলী বেগমকে ১৪ জুন সিজারের জন্য রাইসা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল ৫টায় তার অস্ত্রোপচার হয়। নবজাতক ও মা প্রথমে সুস্থ ছিলেন। পরে রোগীর রক্তক্ষরণ হলে ১৫ জুন সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরাও রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে ওই দিন রাতে শিউলী মারা যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একই দিন রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে শিউলীর স্বজনরা ডা. রকিবকে লাথি, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার মাথার পেছনে জখম হয়। রকিবকে প্রথমে নগরীর খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে শেখ আবু নাসের হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৬ জুন সন্ধ্যায় হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রকিবের। তার মৃত্যুর ঘটনায় ১৭ জুন ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা করেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত