মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চরশিমুলিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে ট্রলারে করে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে বলে জানিয়েছেন ছাত্রীটির পরিবারের সদস্যরা।
অপহৃত ওই কিশোরী স্থানীয় বাউশিয়া মহিলা মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার মা গতকাল শনিবার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এতে উপজেলার নতুন চাষি গ্রামের প্রয়াত সাত্তার মিয়ার ছেলে জুয়েলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। জুয়েল এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত।
অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রীর বড় ভাই দেশ রূপান্তরকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য তার বাবা পার্শ্ববর্তী মসজিদে ছিলেন। তখন তারা তিন ভাই কেউই বাড়িতে ছিলেন না। শুধু তার মা, ফুপু ও অপহৃত বোন বাড়িতে ছিলেন। এ সময় ট্রলারে করে আসা ৫-৭ জন দুষ্কৃতকারী তাদের বাড়িতে ঢোকে। তারা তার বোনের মুখ-চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যেতে চাইলে মা ও ফুপু বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার মা ও ফুপুকে মারধর করে হামলাকারীরা।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে তার বোনকে ট্রলারে তুলে নেয় উল্লেখ করে অপহৃত ছাত্রীর বড় ভাই বলেন, ‘আমার মা ও ফুপুর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই ট্রলার চালিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। তবে আমার মা ও ফুপু তাদের মধ্যে বখাটে জুয়েলকে চিনতে পেরেছে।’
গজারিয়া থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগে তার মা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরপর থেকে পুলিশ ছাত্রীকে উদ্ধারের প্রচেষ্টায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জুয়েলের দুই বোন ও ভগ্নিপতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে জুয়েল পলাতক রয়েছে। তবে শিগগিরই ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
