সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দিতে যাওয়ার পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের চুনা সেতুর কাছে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে বিএনপি। তারা বলছে, দুই দফা হামলায় কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হন ও প্রাইভেট কারসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আছেন তিনি। ‘এ ব্যাপারে’ কিছু জানেন না। এ থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন আলম চৌধুরী বলেন, ‘শুনেছিলাম বিবাদের একটি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে তেমন কোনো আলামত খুঁজে পায়নি।’
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ইফতেখার আলী বলেন, সকাল বেলা ১১টার দিকে তার নেতৃত্বে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, জেলা যুবদল সভাপতি আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিক, জেলা কৃষক দল সভাপতি আহসানুল কাদির স্বপন, জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুকুলসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা শ্যামনগরে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে যাচ্ছিলেন। পথে কাশিমাড়ি ইউনিয়নের চুনা সেতুর কাছে স্থানীয় সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের ছেলে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হায়দারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর দুই দফা হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাদের কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। একই সঙ্গে ভাঙচুর করা হয় তাদের একটি প্রাইভেট কারসহ ৮-১০টি মোটরসাইকেল।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের ভয়ে আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতরা হলেন উপজেলা যুবদল সভাপতি আজিবর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ, ছাত্রদলকর্মী রাসেল, যুবনেতা আনিছ, মিঠু, জহিরুল, মোস্তফা মিন্টু, রবিউল, মামুন ও ছালাম।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হায়দার। ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করে রাজিব বলেন, ‘পরে শুনেছি যে যারা ত্রাণ দিতে যাচ্ছিল তাদের নিজেদের মধ্যে কী ঝামেলা হয়েছে।’
